আরও দুর্বল হলো নেতানিয়াহুর অবস্থান, সমর্থন হারালেন নিজ জোটের দলেরই

বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু— রয়টার্স
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী পদে বহাল থাকতে নির্বাচনের পর রাজনৈতিক লড়াইয়ে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর অবস্থান বৃহস্পতিবার আরও দুর্বল হয়েছে। অতি-গোঁড়া ইহুদিদের একটি দল কোনো প্রার্থীকেই সমর্থন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অন্যদিকে, আরব নেতৃত্বাধীন একটি দল সমর্থন জানিয়েছে তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীকে।
নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে, তা ঠিক করতে ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের নেতানিয়াহু ও তার প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল। এর আগে ছোট দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করেন তিনি।
গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে অচলাবস্থা তৈরি হয়। নেতানিয়াহু কিংবা সাবেক সেনাপ্রধান আইজেনকোট— কেউই পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার মতো সুস্পষ্ট পথ বের করতে পারেননি।
এতে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ। তার পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও নির্বাচনের পর গভীরভাবে বিভক্ত দেশটিতে অচলাবস্থা কাটিয়ে ওঠার সবচেয়ে ভালো সম্ভাবনা রয়েছে— এমন প্রার্থীকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব তার ওপরই বর্তেছে।
এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হারজগের হাতে সময় রয়েছে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত। নতুন কোনো জোট সরকার গঠিত না হওয়া পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নেতানিয়াহু। কোনো প্রার্থী সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে আবার নির্বাচন হবে।
নির্বাচনে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো ফল করেছেন নেতানিয়াহু। তার দল লিকুদ পার্টিও সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তবে তার জাতীয়তাবাদী-ধর্মীয় জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর জন্য বৃহস্পতিবার বড় ধাক্কা হয়ে আসে ইউনাইটেড তোরাহ জুদাইজমের সিদ্ধান্ত। অতি-গোঁড়া ইহুদি ভোটারদের প্রতিনিধিত্বকারী দুটি প্রধান দলের একটি এই দল দীর্ঘদিন ধরে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক। তবে তারা সরকার গঠনের জন্য কোনো প্রার্থীর নাম সুপারিশ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নেতানিয়াহুর মতো আইজেনকোটও এখন পর্যন্ত ইসরায়েলের আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দলের সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন। তবে বৃহস্পতিবার ওই দলগুলোর একটি আইজেনকোটকে সমর্থন জানিয়েছে। দিনের পরের দিকে অন্য দলটিও তাকে সমর্থন জানাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



