লেবাননের স্বার্থে হিজবুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে প্রস্তুত সিরিয়া

এআই
লেবাননে স্বার্থের প্রয়োজন হলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে বসতে প্রস্তুত রয়েছে সিরিয়া। বৃহস্পতিবার বৈরুত সফরকালে এমন মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানি। লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে এ তথ্য।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি লেবাননে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সিরীয় বাহিনীকে ব্যবহারের সম্ভাবনার কথা বলার পর এটিই ছিল শিবানির প্রথম লেবানন সফর।
সফরকালে তিনি লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন এবং হিজবুল্লাহর মিত্র ও পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরিসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
এর আগে লেবাননে সিরীয় বাহিনী প্রবেশের গুঞ্জন অস্বীকার করেছিলেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা।
বর্তমানে সিরিয়ার ক্ষমতায় থাকা সাবেক বিদ্রোহী ও সামরিক কমান্ডাররা দীর্ঘ বছর হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। অন্যদিকে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে সমর্থন দিতে সিরিয়ায় যোদ্ধা পাঠিয়েছিল হিজবুল্লাহ।
ক্ষমতায় আসার পর এখন সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব দেশটির আপেক্ষিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে জোটগত সম্পর্ক ও সামরিক পদক্ষেপ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পরিচালনা করছে। ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধের ক্ষত থেকে এখনো পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে দেশটি।
লেবাননের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, শিবানি প্রেসিডেন্ট আউনকে আশ্বস্ত করেছেন, সিরিয়া লেবাননের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো পক্ষ নেবে না।
সাবেক আল-কায়েদা কমান্ডার আহমেদ আল-শারার নেতৃত্বাধীন নতুন সিরীয় সরকার ২০২৪ সালে বাশার আল-আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক যুদ্ধে তারা মূলত নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছে।
ইসরায়েলের সঙ্গে হিজবুল্লাহর যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংস হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত উদ্যোগে সংঘাত কিছুটা কমলেও যুদ্ধের স্থায়ী অবসান হয়নি।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ লেবাননের হাদাথা শহরে কয়েকটি বাড়ি লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। জানিয়েছে লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এনএনএ।
এদিকে শিবানি বলেছেন, বৈঠকগুলোয় ‘হিজবুল্লাহ ইস্যু’ আলোচনায় ওঠেনি। তবে প্রয়োজন হলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে বৈঠকে বসতে সিরিয়া প্রস্তুত।
গত মাসে ট্রাম্প জানিয়েছেন, লেবাননে বিপুলসংখ্যক বেসামরিক মানুষকে হত্যার জন্য ইসরায়েলের সমালোচনা করার পর প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার সঙ্গে হিজবুল্লাহ মোকাবিলার বিষয়ে কথা বলেছেন তিনি।
ট্রাম্প বললেন, ‘আমি ইসরায়েলকে পরামর্শ দিয়েছি, হিজবুল্লাহকে মোকাবিলার দায়িত্ব সিরিয়াকে দিতে। কারণ সত্যি বলতে, আমার মনে হয় তারা এ কাজ আরও ভালোভাবে করতে পারবে।’



