এআই ব্যবহার করে ইসরায়েল যেভাবে ফিলিস্তিনিদের বসতি গুড়িয়ে দিচ্ছে

পূর্ব জেরুজালেমের বাইত হানিনা এলাকায় ইসরায়েলি বুলডোজারে ভাঙ্গা নিজের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে ফিলিস্তিনি নারী ফাওজিয়া। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আর শুধু মানুষের কাজ সহজ করার প্রযুক্তি নয়। যুদ্ধ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু বড় প্রশ্ন উঠছে, মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্তে এই প্রযুক্তির ভূমিকা কতটা হওয়া উচিত।
ইসরায়েল সেই প্রশ্নের মধ্যেই সামরিক ও ভূমি ব্যবস্থাপনায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়াচ্ছে। গাজায় হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে এআই ব্যবহারের অভিযোগ আগেই সামনে এসেছে। এখন অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীরেও ভূমি নজরদারি ও ফিলিস্তিনিদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদের কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
গবেষক ও অধিকারকর্মীদের ভাষ্য, এআইয়ের মাধ্যমে বিশাল এলাকা খুব দ্রুত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোথায় নতুন স্থাপনা তৈরি হয়েছে, কোথায় জমির চেহারায় পরিবর্তন এসেছে— এসব শনাক্ত করা হচ্ছে। পরে সেগুলোকে অনুমোদনহীন নির্মাণ হিসেবে দেখিয়ে উচ্ছেদ ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ইসরায়েলি অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাফায়েলের তৈরি এআইভিত্তিক একটি ব্যবস্থা— ‘ইমিসাইট’।
তুরস্কের সংবাদমাধ্যম পালডিজিটাল ফিলিস্তিনি অধিকারকর্মী ও ইসরায়েলি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের বরাতে জানিয়েছে, পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণে ইমিসাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। উপগ্রহের ছবি ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ব্যবস্থা জমির পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে।
প্রথম দিকে ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে ফিলিস্তিনি বেদুইন নাগরিকদের এলাকায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এসব বেদুইন সম্প্রদায়ের অনেকেই এমন গ্রামে বসবাস করেন, যেগুলো ইসরায়েল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি। ফলে সেখানে নির্মাণের অনুমতি পাওয়াও কঠিন।
অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব এলাকার ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো স্থাপনায় পরিবর্তন শনাক্ত হলে অনেক ক্ষেত্রে সেখানে বুলডোজার পাঠানো হয়েছে।
এখন একই ধরনের ব্যবস্থা নিয়ে যাওয়া হয়েছে অধিকৃত পশ্চিম তীরে। সেখানে বহু বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর নির্মাণের অনুমতি না থাকার অভিযোগে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অথচ অনেক এলাকায় ফিলিস্তিনিদের জন্য নির্মাণের অনুমতি পাওয়া অত্যন্ত কঠিন।
এআই কীভাবে উচ্ছেদকে দ্রুত করছে
২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পশ্চিম তীরে কাজ করার জন্য ইসরায়েল ল্যান্ড অথরিটির একটি নতুন ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ইসরায়েলি অধিকার সংগঠন পিস নাউ এটিকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বেসামরিক প্রশাসন সরাসরি সম্প্রসারণের একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই সংস্থার কাছে জমিতে অনুপ্রবেশ শনাক্ত করার জন্য এআইভিত্তিক উন্নত প্রযুক্তি রয়েছে।
ফিলিস্তিনি ভূমি ও প্রাচীর প্রতিরোধ কমিশনের নথি ও প্রকাশনা বিভাগের প্রধান আমির দাউদ মনে করেন, এটি নিছক প্রযুক্তিগত পরিবর্তন নয়। তার মতে, নেগেভে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে পরীক্ষিত নজরদারি ও উচ্ছেদের পদ্ধতি এখন অধিকৃত ভূখণ্ডে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
দাউদের ভাষায়, পশ্চিম তীরে ইসরায়েল ল্যান্ড অথরিটির একটি ইউনিট কাজ করার অর্থ হলো ইসরায়েলের বেসামরিক প্রশাসনের একটি অংশ সরাসরি অধিকৃত এলাকায় প্রবেশ করছে।
এখানেই এআইয়ের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আগে কোনো এলাকায় পরিবর্তন হয়েছে কি না, তা শনাক্ত করতে মানুষের সরেজমিন পরিদর্শন, ছবি দেখা ও তথ্য যাচাইয়ের প্রয়োজন ছিল। এখন স্যাটেলাইট ছবি, ক্যামেরা ও এআই একসঙ্গে কাজ করায় সেই প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত করা সম্ভব।
ফিলিস্তিনি ডিজিটাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ খালেদ সাফি বিষয়টিকে ‘এজ কম্পিউটিং’ প্রযুক্তির সঙ্গে তুলনা করেছেন। অর্থাৎ তথ্য সংগ্রহের পর সেটি পৃথিবীর কোনো তথ্যকেন্দ্রে পাঠিয়ে বিশ্লেষণ করার বদলে উপগ্রহের ভেতরেই এআই দিয়ে প্রাথমিক বিশ্লেষণ করা যায়।
উপগ্রহ ছবি তুলবে। এআই সেটি বিশ্লেষণ করবে। কোথায় পরিবর্তন হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ কোন বস্তু দেখা গেছে—তা শনাক্ত করবে। এরপর প্রয়োজনীয় তথ্যই পৃথিবীতে পাঠানো হবে।
এর ফলে নজরদারির গতি অনেক বেড়ে যায়। আর এই গতিই উচ্ছেদ কার্যক্রমকেও দ্রুত করতে পারে।
দাউদের ভাষায়, এআই এখানে একটি ‘শক্তিবর্ধক’। এটি বিশাল এলাকা স্ক্যান করতে পারে, সম্ভাব্য লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে, সাম্প্রতিক পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। এরপর সতর্কতা ও স্থাপনা ভাঙার কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়।
অর্থাৎ সিদ্ধান্তটি শেষ পর্যন্ত মানুষই নেয়। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বাছাইয়ের কাজ অনেকটাই স্বয়ংক্রিয় হয়ে যায়।
পশ্চিম তীরে বাড়ছে স্থাপনা ধ্বংস
পশ্চিম তীরে স্থাপনা ধ্বংসের ঘটনা যে বাড়ছে, তারও তথ্য রয়েছে।
পিস নাউ ও কেরেম নাভোটের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে পশ্চিম তীরের এরিয়া ‘সি’ ও পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের স্থাপনা ধ্বংসের হার আগের সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২৫ সালে শুধু এরিয়া ‘সি’তেই নির্মাণের অনুমতি না থাকার অভিযোগে ১ হাজার ২৬৯টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে বলে পিস নাউ জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় দপ্তর ও অন্যান্য সংস্থার তথ্যেও পশ্চিম তীরে অনুমতি না থাকার অভিযোগে স্থাপনা ধ্বংসের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার চিত্র পাওয়া যায়। ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে ১ হাজার ২৮৮টি ফিলিস্তিনি স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছিল বলে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল জানিয়েছে।
এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। শুধু বাড়িঘর নয়, পানির অবকাঠামো, কৃষি স্থাপনা ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন স্থাপনাও এসব ধ্বংসের আওতায় পড়ে।
ফলে একটি স্থাপনা ভেঙে দেওয়া মানে শুধু একটি ভবন হারানো নয়। অনেক ক্ষেত্রে এর সঙ্গে একটি পরিবারের বাসস্থান, আয় এবং ভবিষ্যৎও জড়িয়ে থাকে।
মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রযুক্তি
এআই ব্যবহারের ফলে এই প্রক্রিয়ার আরেকটি পরিবর্তন হচ্ছে সিদ্ধান্ত নেওয়ার গতি।
দাউদের ব্যাখ্যায়, অ্যালগরিদম বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ করে সম্ভাব্য পরিবর্তনগুলো আলাদা করে দিতে পারে। এরপর সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।
এতে একটি প্রশ্ন সামনে আসে—যদি কোনো অ্যালগরিদম একটি স্থাপনাকে সম্ভাব্য ‘অননুমোদিত’ নির্মাণ হিসেবে চিহ্নিত করে, তাহলে সেই সিদ্ধান্তের দায় কার?
খালেদ সাফি এই ঝুঁকিটিকেই ‘মানুষকে সিদ্ধান্তের বাইরে রেখে দেওয়া’ হিসেবে দেখছেন।
তার মতে, মানুষের জীবনের ওপর বড় সিদ্ধান্তকে যদি শেষ পর্যন্ত একটি সম্ভাবনার হিসাব, একটি ছবি বা কিছু তথ্যের ওপর নির্ভর করানো হয়, তাহলে দায় এড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। সিদ্ধান্তের দায় তখন অ্যালগরিদম, প্রতিষ্ঠান বা অন্য কোনো অজ্ঞাত ব্যবস্থার ওপর ঠেলে দেওয়া সম্ভব।
এটি এআই ব্যবহারের সবচেয়ে বড় নৈতিক প্রশ্নগুলোর একটি।
মাটিতে নজরদারি, আকাশে ড্রোন
এই এআই ব্যবস্থা শুধু উপগ্রহের ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে মাটিতে থাকা নজরদারি নেটওয়ার্কও।
ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বিভিন্ন টহল দল ফিলিস্তিনি জমি ও স্থাপনা পর্যবেক্ষণে তথ্য সংগ্রহের কাজে যুক্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পিস নাউ জানিয়েছে, ২০২৩ সালে ইসরায়েলি সরকার বসতিস্থাপনকারীদের ভূমি টহল ইউনিটের জন্য ৩ কোটি ৩০ লাখ শেকেল বরাদ্দ করেছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন অবৈধ বসতিতে ড্রোন ও ক্যামেরা স্থাপনের জন্য আরও ৪ কোটি শেকেল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল।
অর্থাৎ পুরো ব্যবস্থাটি একদিকে আকাশ থেকে ছবি সংগ্রহ করছে। অন্যদিকে মাটিতে থাকা টহল দলও তথ্য দিচ্ছে। এরপর এআই সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে।
এভাবে প্রযুক্তি, প্রশাসন ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
একই জমিতে দুই ধরনের বাস্তবতা
এখানে পশ্চিম তীরের আরেকটি বড় বাস্তবতা সামনে আসে। একদিকে ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর ও স্থাপনা ভাঙার প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে। অন্যদিকে ইসরায়েলি বসতি ও নতুন বসতিগুলোর সম্প্রসারণও চলছে।
পিস নাউ ও কেরেম নাভোটের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, নতুন আউটপোস্ট স্থাপন, জমি দখল এবং ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের উচ্ছেদসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ এগিয়ে নিয়েছে। সংগঠন দুটির মতে, এসব পদক্ষেপ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ আরও গভীর করেছে।
ফলে সমালোচকদের কাছে প্রশ্নটি শুধু এআই ব্যবহারের নয়। প্রশ্ন হলো, এই প্রযুক্তি কোন নীতির অধীনে এবং কার বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে।
দাউদ এটিকে বৈষম্যমূলক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দেখছেন। তার ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের স্থাপনা দ্রুত শনাক্ত করে ধ্বংসের পথে পাঠানো হচ্ছে। অন্যদিকে বসতিস্থাপনকারীদের আউটপোস্ট অর্থ, অবকাঠামো ও সরকারি সেবার সহায়তা পাচ্ছে এবং পরে সেগুলোকে বৈধ করার প্রক্রিয়া চলছে।
অর্থাৎ একই জমিতে প্রযুক্তির প্রয়োগ দুই পক্ষের জন্য দুই ধরনের ফল তৈরি করছে—এটাই সমালোচকদের মূল অভিযোগ।
পশ্চিম তীর কি এআই পরীক্ষাগারে পরিণত হচ্ছে
সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখানেই। যদি কোনো প্রযুক্তি দিয়ে দ্রুত জমি শনাক্ত করা যায়, স্থাপনা চিহ্নিত করা যায় এবং সম্ভাব্য উচ্ছেদের লক্ষ্য নির্ধারণ করা যায়, তাহলে সেই প্রযুক্তি শুধু প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়ায় না। এটি একটি রাজনৈতিক ও সামরিক নীতিকে আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করার সক্ষমতাও তৈরি করতে পারে।
আর এই প্রযুক্তি যদি যুদ্ধ ও দখলদারির পরিবেশে পরীক্ষা করা হয়, তাহলে তার অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে অন্য জায়গাতেও ব্যবহার করা সম্ভব।
ফিলিস্তিনি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সাফির আশঙ্কা, পশ্চিম তীর শুধু নজরদারির জায়গা নয়। এটি এমন একটি বাস্তব পরিবেশ, যেখানে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প নতুন প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ ও উন্নত করার সুযোগ পাচ্ছে। পরে সেই প্রযুক্তি বাণিজ্যিক বাজারেও বিক্রি করা যেতে পারে।
এখানে তাই এআইয়ের প্রশ্নটি শুধু প্রযুক্তির নয়। এটি ক্ষমতার প্রশ্নও।
একটি অ্যালগরিদম নিজে কোনো বাড়ি ভাঙে না। বুলডোজারও নিজে সিদ্ধান্ত নেয় না। সিদ্ধান্ত নেয় মানুষ ও প্রতিষ্ঠান। কিন্তু এআই যদি সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে একটি উচ্ছেদ অভিযান আগের তুলনায় অনেক দ্রুত ও বড় পরিসরে চালানো সম্ভব।
এ কারণেই পশ্চিম তীরে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে বিতর্কটি শুধু প্রযুক্তির নৈতিকতা নিয়ে নয়। এটি জমি, বসতি, উচ্ছেদ এবং দখলকে আরও দ্রুত কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ভূমিকা নিয়েও।
শেষ পর্যন্ত মূল প্রশ্নটি থেকে যায়—মানুষের বাড়িঘর, জমি ও ভবিষ্যৎ নির্ধারণের মতো সিদ্ধান্তে অ্যালগরিদম কতটা ভূমিকা নেবে, আর সেই সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত দায় নেবে কে?
সূত্র : আলজাজিরা







