ইসমাইল বাঘাই
‘সেতু-টাওয়ার নয়, ভেঙে পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান’

ইসমাইল বাঘাই- রয়টার্স
যুক্তরাষ্ট্রের ‘বর্বরোচিত কর্মকাণ্ড’ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর আচরণের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনটাই মন্তব্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই জ্যেষ্ঠ ইরানি কূটনীতিক লেখেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া চলমান হামলার অংশ হিসেবে গত ১৬ জুন ইচ্ছাকৃতভাবে চাবাহার সামুদ্রিক নজরদারি টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তিনি বলেছেন, এটি ছিল একটি বেসামরিক স্থাপনা, যা সমুদ্রপথে নিরাপত্তা ও নৌচলাচল তদারকির কাজে ব্যবহৃত হতো।
বাঘাই দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধমন্ত্রী গর্বের সঙ্গে টাওয়ারটি ধসে পড়ার ভিডিও প্রকাশ করেছেন।
তিনি আরও বলেছেন, যদি তার পক্ষে সম্ভব হতো, তাহলে মিনাবের একটি বিদ্যালয়ে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এবং লামের্দে বেসামরিক মানুষ হত্যার দৃশ্যও একই ধরনের গর্বের সঙ্গে প্রচার করতেন।
বাঘাইয়ের দাবি, জাস্কের বুনজি গ্রামের জেটিতে বিদ্যুৎ স্থাপনা ও লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ পাম্পেও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ১০ হাজারের বেশি মানুষ বিশুদ্ধ পানীয় জল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, ‘একসময় যে রাষ্ট্র নিজেকে বিশ্বব্যবস্থা, উদারনীতি এবং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বৈশ্বিক নেতা হিসেবে উপস্থাপন করত, সেই রাষ্ট্রের এখন একমাত্র গর্ব হয়ে দাঁড়িয়েছে ধ্বংসপ্রাপ্ত সেতু ও বেসামরিক অবকাঠামোর ছবি প্রদর্শন।’
বাঘাই আরও বলেছেন, প্রতিটি সেতু, টাওয়ার ও বেসামরিক স্থাপনা ধসে পড়ার সঙ্গে শুধু ইস্পাত ও কংক্রিটই ধ্বংস হচ্ছে না। এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৈতিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক আইনের পুরো কাঠামো এবং পাশ্চাত্যের সভ্যতার দাবিও বিশ্বের সামনে ভেঙে পড়ছে।
তিনি বললেন, ‘এখন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সামনে একটি সরল কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। চাবাহার, মিনাব, লামের্দ এবং জাস্কে তারা যা করেছে, তার সঙ্গে সেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডগুলোর প্রকৃত পার্থক্য কী, যেগুলোকে একসময় তারা নিজেদের যুদ্ধ ও দখলদারিত্বের ন্যায্যতা প্রমাণে ব্যবহার করেছিল?’




