ফের কেন তেহরান সফরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান

সংগৃহীত ছবি
ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা আবারও জোরালো হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার হুমকি, হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থা এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে আলোচনার টানাপড়েনের মধ্যেই সোমবার ইরান সফরে যাচ্ছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তার এই সফর।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনায় মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিয়েছে পাকিস্তান।
মুনিরের সফরের বিষয়টি রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তান সরকারের দুই কর্মকর্তা। প্রথম কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ও পাকিস্তান সরাসরি যোগাযোগ রাখছে।
দ্বিতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আলোচনায় সংঘাতের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহও উঠে আসবে। এর মধ্যে ইরানের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকিও রয়েছে।
ওই কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইসলামাবাদের সমঝোতা স্মারকের আওতায় শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়, ট্রাম্পের সতর্কবার্তা এবং পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি আরবের চুক্তি ও হুতিদের বিষয়সহ সংঘাতের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে তিনি ইরানি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।’
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে সামরিক জবাব দেওয়ার হুমকি দেওয়ায় এমনিতেই উত্তেজনা বেড়েছে। নতুন নিষেধাজ্ঞা দেশটির নাজুক অর্থনীতির ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এমন পরিস্থিতির মধ্যেই মুনিরের এ সফর হচ্ছে।
ইরানের ওপর পরিকল্পিত নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত সোমবার ঘোষণা করা হবে। একই সময়ে মুনিরের সফরও হবে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এসব নিষেধাজ্ঞা হবে ইরানের ওপর ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা’।
ইরানকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ট্রাম্প এর আগে ‘যেকোনো ধরনের সহায়তা’ দেওয়া যেকোনো দেশের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন।
হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে আছে। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করা অনুমোদনহীন যেকোনো তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান।
আগেও তেহরান সফর করেছিলেন মুনির
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের অবসানে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নেওয়ার পর আসিম মুনির এর আগেও একাধিকবার তেহরান সফর করেছেন। এ বছরের এপ্রিলে তার তিন দিনের ইরান সফরে প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয়। আলোচনার মূল বিষয় ছিল আঞ্চলিক নিরাপত্তা, উত্তেজনা কমানো এবং কূটনৈতিকভাবে যুদ্ধের অবসানের পথ খোঁজা।
এরপর মে মাসেও মুনির তেহরান সফর করেন। তখন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়া এবং একটি চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে যাওয়ার চেষ্টা চলছিল। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে মুনিরের আলোচনায় ‘চূড়ান্ত সমঝোতার দিকে উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে এবং উভয়পক্ষ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে চলমান পরামর্শ প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ৮ এপ্রিল, যখন ইসলামাবাদের প্রচেষ্টায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হয়। এর কয়েক দিন পর ১১ ও ১২ এপ্রিল পাকিস্তানে দুই দেশের মধ্যে ১৯৭৯ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তবে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ-চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি সেই আলোচনা।
সূত্র : রয়টার্স, আনাদোলু এজেন্সি, ডন







