বিশ্লেষক ও সাংবাদিকদের আশাবাদ
এখানেই শেষ নয়, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা হবে আবার

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের স্পিকার বাকির কালিবাফ । ছবি : কোলাজ
মার্কিন–ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ২১ ঘণ্টাব্যাপী উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দেশ দুটি। এমতাবস্থায় চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল রবিবার সকালে ছেড়ে যায় ইসলামাবাদ।
ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন দেশটির স্পিকার বাকির কালিবাফ। পরষ্পরকে দোষারোপের মাধ্যমে ইতি ঘটে এ আলোচনার।
তবে কোনো ফলাফল ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পরও আশা ছাড়ছেন না বৈদেশিক সম্পর্ক সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও সাংবাদিকরা। তাদের মতে এখনো ভালো কিছু ঘটা সম্ভব।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দক্ষিণ এশীয়বিষয়ক ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষক মাইকেল কুগেলম্যান জানান, আলোচনা সম্ভবত শেষ হয়নি এখানে। হতে পারে আরও আলোচনা, তবে তা পাকিস্তানে নাকি অন্য কোথাও হবে স্পষ্ট নয় তা।
যুক্তরাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণে এমন একটি চুক্তি চায়, যা তাদের সাহায্য করবে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে। এত উচ্চপর্যায়ের একটি দল পাকিস্তানে উড়ে যাওয়াটা যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারই দেখায়, এক্সে লেখেন তিনি।
ভ্যান্সের মন্তব্য সত্ত্বেও, এটি সম্ভবত এখানেই শেষ নয়, যোগ করেন কুলেগম্যান।
পররাষ্ট্রবিষয়ক কলামিস্ট ড্যানিয়েল ডেপেট্রিস মনে করেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি ব্যাপক চুক্তি সম্ভব নয় এক দিনে।
প্রায় ২৪ ঘণ্টার আলোচনা অনেক, কিন্তু এটা শুধু ২৪ ঘণ্টা। আপনি ২১ ঘণ্টায় পারমাণবিক, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালি ও যুদ্ধ শেষ করার শর্তগুলো সমাধান করতে যাচ্ছিলেন না, এক্সে লেখেন ডেপেট্রিস।
সাংবাদিক রেজা আহমদ রুমি-ও একই মত পোষণ করেছেন, আলোচনা শুরু হবে আবার। তিনি উল্লেখ করেন, গত রাতের আলোচনার পর ভ্যান্সের কোনো চুক্তি না হওয়ার ইঙ্গিত প্রতিফলিত করেছে একটি ‘কাঠামোগত অচলাবস্থা’কে।
কিন্তু এটি কূটনীতি, একবারের আলোচনার মতো নয়, এক্সে লিখেছেন তিনি। তার মতে, আলোচনা শুরু হবে আবার।
সাবেক মানবাধিকার মন্ত্রী শিরিন মাজারির মতে, পাকিস্তান যতটা সম্ভব করেছে, কিন্তু মার্কিন অহংকার সুযোগ দেয়নি কখনোই কোনো যুক্তিসংগত সমঝোতার।
আলোচনার মাধ্যমে যা পাওয়া যায়নি, তা যুদ্ধের মাধ্যমে পাওয়ার চেষ্টা করেছে, এক্সে এক পোস্টে লেখেন তিনি।
এটা সবসময়ই জটিল হতে যাচ্ছিল, বলেন সাংবাদিক খুররম হুসাইন।
গালিবাফ ও ভ্যান্স দুজনই ইঙ্গিত দিয়েছেন, সম্ভাবনা রয়েছে আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার। বর্তমান সময়ে সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়া আরও কঠিন। কারণ সামরিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কোনো পথ নেই, যোগ করেন তিনি।
সাংবাদিক ইফতিখার ফিরদৌস মনে করেন, ইরান ও ভ্যান্সের দেওয়া বিবৃতিগুলোর মধ্যে ছিল একটি ‘স্পষ্ট বৈপরীত্য’, যা প্রতিফলিত করে তাদের দুটি ‘মৌলিকভাবে ভিন্ন কূটনৈতিক মানসিকতা’।
পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট। যেমন পররাষ্ট্রমন্ত্রী দার জানান, এটি সহায়তাকারী ভূমিকা পালন করতে থাকবে। এখানেই শেষ নয়, ফিরদৌস যোগ করেন।
কোনো অগ্রগতি না হওয়া এটি সবার জন্যই হতাশাজনক খবর বলে মনে করছেন কলামিস্ট নিয়াজ মুর্তাজা। অনেকেই আশা করেছিলেন, অন্তত একটি অগ্রগতি হবে যুদ্ধবিরতি বাড়ানো ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে।
হয়তো সেটি ঘটতে পারে এখনো। কিন্তু এমন অনিশ্চয়তাও খারাপ। যুক্তরাষ্ট্রের অনমনীয়তাই প্রধান কারণ, উল্লেখ করেন তিনি।
কলামিস্ট ও গবেষণা বিশ্লেষক ড. তহমিনা আসলাম রঞ্জা এক্সে লেখেন, আলোচনা কোনো চুক্তি দিতে না পারলেও পাকিস্তান আস্থাহীনতা ও উত্তেজনার মুহূর্তে সংলাপের জন্য তৈরি করেছে একটি সুযোগ।
একইভাবে সাংবাদিক আনাস মালিক মনে করেন, আলোচনা ফল না দিলেও শেষ হয়ে যায়নি কূটনীতি। কূটনীতি মৃত নয়। ‘একটু অপেক্ষা করুন’— এক্সে জানান এ সাংবাদিক।
সাংবাদিক ও লেখক গওহার গিলানির মতে, কূটনীতি কোনো সাজসজ্জা নয়, একটি প্রক্রিয়া। অচলাবস্থার চেয়ে সংলাপ ভালো।

