ইরানের প্রতিক্রিয়া
আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র

রোববার যুদ্ধবিরতি আলোচনার প্রতিক্রিয়া নিয়ে বক্তব্য দিয়েছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই। ছবি : তাসনিম
যুক্তরাষ্ট্রের অতিরিক্ত দাবির কারণে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই।
আশার কথাও শুনিয়েছেন ইরানের এই কূটনীতিক। তার মতে, কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শেষ হয় না কখনো।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বাকাই।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় গত বুধবার দুই সপ্তাহের সাময়িক যুদ্ধবিরতি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। জবাবে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান।
৪০ দিন সংঘাতের পর স্থায়ী চুক্তির জন্য শনিবার পাকিস্তানে আলোচনায় বসে দুপক্ষ। দীর্ঘ ২৪-২৫ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশের কূটনীতিকরা।
আলোচনা প্রসঙ্গে বাকাইয়ের ভাষ্য, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র বেশকিছু বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে। তবে মতপার্থক্য রয়েছে ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে।
ইরানি মুখপাত্র উল্লেখ করেন, ৪০ দিনের চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধের পর অবিশ্বাস ও সন্দেহের পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় এ আলোচনা। এটা স্বাভাবিক যে সবার মতো শুরুর বৈঠকেই একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা করিনি আমরা।
গত এক বছরের মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা এবং শীর্ষ নেতৃত্বের অংশগ্রহণকে ইতিবাচক বলে ইঙ্গিত দেন বাকাই। তার মতে, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে যুদ্ধ ও শান্তি উভয় সময়েই কর্তব্য পালন করতে হয় কূটনীতিকদের।
বাকাই পরিষ্কার করেন, প্রতিপক্ষের আন্তরিকতা ও সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করছে আলোচনার সাফল্য। ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থের স্বীকৃতিও দিতে হবে ওয়াশিংটনকে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আলোচনায় জটিলতার কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির মতো কিছু নতুন বিষয় যুক্ত হয়েছে এই আলোচনায়। যার প্রত্যেকটিরই রয়েছে আলাদা জটিলতা।
তার মত, যেকোনো পরিস্থিতিতে অবশ্যই ইরানি জনগণের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ করতে হবে কূটনৈতিকদের।
বক্তব্যে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ এবং প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দারসহ দেশটির কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানান ইরানের এ কূটনীতিক।

