ফিকে হয়ে আসছে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তির আশা

ইসলামাবাদের রেড জোনে পাকিস্তানি চারজন নিরাপত্তাকর্মী। ছবি : রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক সাফল্যের আশা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। ইসলামাবাদের শান্তি আলোচনা দ্বিতীয় দফাতেও দেখেনি আলোর মুখ। তেহরান ও ওয়াশিংটন উভয়ই তাদের শর্ত শিথিল করতে তেমন আগ্রহ দেখাচ্ছে না।
৪০ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দুপক্ষ। একে স্থায়ী রূপ দিতে ১১ ও ১২ এপ্রিল ২১ ঘণ্টার ম্যারাথন আলোচনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরান। কিন্তু তাতেও আসেনি কোনো সমাধান। পরে পাকিস্তানের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আবারো আলোচনায় বসার কথা জানায় বিবাদমান উভয় পক্ষ।
কিন্তু এ সপ্তাহের শেষ দিন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানকে খালি হাতে ফিরিয়ে দিয়েছেন। জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে ইসলামাবাদ থেকে ফিরিয়ে নিয়েছেন।
ইরান সরকারের এক বিবৃতি অনুসারে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফকে ফোনে জানিয়েছেন, তেহরান হুমকি বা অবরোধের মুখে চাপিয়ে দেওয়া শান্তি আলোচনায় অংশ নেবে না।
পেজেশকিয়ান বলেছেন, সংঘাত নিরসনের জন্য আলোচনা আগে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধসহ কার্যকরী বাধাগুলো প্রথমে দূর করা।
ইসলামাবাদে অবস্থিত একটি ইরানি কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য দাবি মেনে নেবে না বলে স্পষ্ট করেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ফ্লোরিডায় সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন। কারণ হিসেবে ইরানের দেওয়া প্রস্তাবটি বিবেচনা করার মতো নয় বলে মন্তব্য করেছেন।
কূটনৈতিক সফরটি বাতিল হওয়ার পর ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান অনেকগুলো প্রস্তাব দিয়েছিল, কিন্তু তা যথেষ্ট ছিল না।
তার ভাষ্য, ইরানের নেতৃত্বের মধ্যে প্রচণ্ড অন্তর্দ্বন্দ্ব ও বিভ্রান্তি থাকায় তেহরান সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।
তেহরান অবশ্য ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখান করেছে। ইরানের স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ প্রায় সকল শীর্ষ কর্মকর্তা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তেহরানের নেতৃত্বে কোনো কট্টরপন্থী বা মধ্যপন্থী নেই এবং দেশটি তার সর্বোচ্চ নেতার পেছনে ঐক্যবদ্ধ আছে।
বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি এবং একটি প্রধান তেল রপ্তানিকারক শক্তির মধ্যে সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলেছে। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বহু বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনাকে কমিয়ে দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স

