‘জনস্বাস্থ্যকে বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ’

ছবি: আগামীর সময়
‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়টিকে দেশে বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শুরু থেকেই নিম্ন আয়ের মানুষের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি। তার জীবন-যাপন, পোশাকের মধ্যেও ছিল দর্শনের ছোঁয়া, যা অনুকরণীয়।’ ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গল্প : পাবলিক হেলথের প্রথম পাঠ’ শীর্ষক বই নিয়ে বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেছেন ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।
আজ শনিবার রাজধানী ফার্মগেটে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজন করা হয় এ সভা। বইটির লেখক চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোশতাক আহমদ। বইটিতে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের উৎপত্তি, গড়ে ওঠা, কর্মপরিসর এবং প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্য ও সেবা সম্পর্কে নিজ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতার কথা লিখেছেন তিনি। একই সঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর ভাবনা, কাজ ও সৃষ্টির নানা বিবরণ দিয়েছেন বইটিতে। ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন মোশতাক আহমদ।
অনুষ্ঠানে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ ইকবাল বলেছেন, ‘ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতন করেছেন, পথ দেখিয়েছেন সবাইকে। যদিও বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছেন, তবে থামেননি। আবার শুরু করেছেন।’ ‘চিকিৎসা সেবা গ্রামের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য আমরণ লড়াই করেছেন ডা. জাফরুল্লাহ। দেশে বহুজাতিক ওষুধ কোম্পানির দৌরাত্ম্য কমাতে ছিলেন সোচ্চার। তার উদ্যোগের কারণে দেশ এখন ওষুধশিল্পে স্বয়ংসম্পূর্ণ। নানা ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন নারীদের উন্নয়নেও। স্বল্পশিক্ষিত নারীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে পরিণত করেছেন দক্ষ জনবলে। ওষুধ কারখানায় বেশিরভাগ কর্মী এখন নারী,’ বলছিলেন তিনি।
যুদ্ধাহত এবং অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দিতে মুক্তিযুদ্ধকালে গড়ে ওঠা ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল’ থেকেই আজকের গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের জন্ম বলে জানান জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সহধর্মিণী ও নারী অধিকার কর্মী শিরীন পারভীন হক। তিনি বলেছেন, ‘শুধু চিকিৎসা সেবা নয়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের অগ্রযাত্রা সব সময় নারী আন্দোলনকে উৎসাহিত করে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গল্প : পাবলিক হেলথের প্রথম পাঠ’ বইটিতে কমিউনিটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ, কাজের ধরন ও চ্যালেঞ্জ উঠে এসেছে। যা তাদের নিয়ে কাজ করতে অনেক সাহায্য করবে, অনুপ্রেরণা জোগাবে বলে মন্তব্য উন্নয়নকর্মী ও গবেষক আহমদ মোশতাক রাজা চৌধুরীর। এই বইয়ের ব্যবহার করা ছবিগুলো বাংলাদেশের জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেছেন, ‘জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজের পরিসরে অনেক ঘাটতি, যার ফলে এখনো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বইটিতে গণস্বাস্থ্য নিয়ে স্মৃতিকথার মাধ্যমে যে ধরনের তথ্যগুলো তুলে ধরা হয়েছে, তা এই খাতে যোগ করবে অন্যমাত্রা।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান, কথাসাহিত্যিক ও অনুবাদক আফসানা বেগম, অধ্যাপক এম এম আকাশ, লেখক ও গবেষক ড. খুরশিদ আলম প্রমুখ।

