পুঠিয়ায় আ.লীগ নেতাকে ‘জঙ্গি’দের পুড়িয়ে হত্যার নেপথ্যে কি

ছবি: আগামীর সময়
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ঘিরে নতুন করে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। সেখানে দাবি করা হয়, রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান মল্লিককে ‘জঙ্গি নেতা’ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। ভিডিওটি বিভিন্ন পোস্টে বাংলাদেশে সংঘটিত সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, ফলে বিষয়টি নিয়ে অনলাইনে তৈরি হয় বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ ।
‘দৈনিক গ্রাম বাংলার কাগজ’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে গত ২৪ এপ্রিল বিকেল ৩টা ৩৬ মিনিটে ভিডিওটি প্রকাশের পর এটি ছড়িয়ে পড়ে আরও দ্রুত্ । এরপর বিভিন্ন পোস্টে একই দাবি প্রচার হতে থাকে পুনরায়। কমেন্ট ও প্রতিক্রিয়ায় দেখা যায়, অনেকেই ভিডিওটিকে সত্য ঘটনা ভেবে শেয়ার করেছেন, আবার কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন এর সত্যতা নিয়ে।
ভিডিওটি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সেখানে একজন ব্যক্তিকে আগুনের কাছাকাছি রেখে আরেক ব্যক্তি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন এবং আশপাশে কয়েকজন উপস্থিত আছেন। তবে ভিডিওতে স্থান, সময় বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। এছাড়া ব্যাকগ্রাউন্ডে সংগীত থাকায় কথোপকথন স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয় না।
ভিডিওটির কি-ফ্রেম বিশ্লেষণ করে রিভার্স ইমেজ সার্চে ‘shidik ali’ নামের একটি ইউটিউব চ্যানেলে একই দৃশ্যের একটি শর্টস ভিডিও পাওয়া যায়। ‘Musalman ke bare mein bolo na’ শিরোনামের ওই ভিডিওর সঙ্গে ভাইরাল হওয়া ফুটেজের সম্পূর্ণ মিল রয়েছে।
মূল ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে জানা যায়, এটি কোনো হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য নয়। সেখানে টুপি ও পাঞ্জাবি পরিহিত দাড়িওয়ালা একজন ব্যক্তিকে জ্বলন্ত আবর্জনার ধোঁয়ার কাছে রেখে আরেকজনকে জোরপূর্বক বসানো ও জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকজন তাকে সহায়তাও করছেন।
ভিডিওতে হিন্দি ভাষায় কথোপকথন শোনা যায়, যেখানে বোঝা যায় এটি ভূত বা জিন ছাড়ানোর একটি কুসংস্কারভিত্তিক ‘ওঝা’র কার্যক্রম। সেখানে একজন ব্যক্তিকে ধোঁয়ার ওপর বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাকে আর বিরক্ত করবে কি না—এমন প্রশ্ন করা হচ্ছে। জবাবে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে আর বিরক্ত করবেন না এবং ‘মায়ের কসম’ বলেন। এক পর্যায়ে তাকে মাথায় আঘাত করতেও দেখা যায়।
এই কথোপকথন ও পুরো দৃশ্য বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়, এটি কোনো সহিংস হামলা বা হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নয়; বরং একটি ভূত ছাড়ানোর আচার-অনুষ্ঠানের দৃশ্য। আরও অনুসন্ধানেও রাজশাহীর পুঠিয়ায় আরমান মল্লিক নামে কোনো আওয়ামী লীগ নেতাকে পুড়িয়ে হত্যার বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ‘পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগ নেতা আরমান মল্লিককে পুড়িয়ে হত্যা’ দাবিতে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ঘটনার। এটি বাংলাদেশের কোনো হত্যাকাণ্ড নয়, বরং ভারতের একটি ভূত ছাড়ানোর পুরোনো ভিডিও, যা ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।


