রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
কোয়ালাদের বাঁচার শেষ ভরসা

কোয়ালাদের বাঁচার শেষ ভরসা

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬
আগামীর সময়
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • ইপেপার
EN
  • বেটা
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • অর্থনীতি
  • সারা দেশ
  • বিশ্ব
  • খেলা
  • বিনোদন
  • লাইফস্টাইল
  • মতামত
  • ফিচার
  • চট্টগ্রাম
  • ভিডিও
  • শিক্ষা
  • বিচিত্রা
  • ইপেপার
  • EN

প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক : আবদুস সাত্তার মিয়াজী

সম্পাদক : মোস্তফা মামুন

আগামীর সময়
আমাদের সম্পর্কেযোগাযোগশর্তাবলীগোপনীয়তাআমরা

ইডিবি ট্রেড সেন্টার (লেভেল-৬ ও ৭), ৯৩ কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ, কারওয়ানবাজার, ঢাকা-১২১৫

যোগাযোগ: ০৯৬৬৬ ৭৭১০১০

বিজ্ঞাপন: ০১৭৫৫ ৬৫১১৬৪

info@agamirsomoy.com

স্বত্ব © ২০২৬ | দৈনিক আগামীর সময়

আগামীর সময় মতামত

অবহেলার ক্ষমতা ও অসহায়ের নিরন্তর মৃত্যুযাত্রা

হাবিবুর রহমানপ্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫৩
অবহেলার ক্ষমতা ও অসহায়ের নিরন্তর মৃত্যুযাত্রা

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশে জন্মের পর বড় হয়ে আমাদেরকে নানান অপঘাতে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হতে হয়। নিরাপদে নিজের শত চেষ্টার পরেও বেঁচে থাকাটা এখানে একটা বড় বিস্ময়! এই দেশের মানুষ লড়াই আর ধৈর্যে বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে বিরল ক্ষমতা অর্জন করেছে। তবুও এই দেশের মানুষ এত অনিরাপদ; তাদের জীবন এতটা সহজ ও বিস্তৃত সব কারণ-কায়দায় মৃত্যু বরণ করে নেয়। শিশুরা তাদের মা-বাবার কাছে শ্রেষ্ঠ পাওয়া। একজন সন্তানের জন্য মা-বাবা সব যন্ত্রণা ভোগ করেও আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। পৃথিবীর অন্য কোনো কিছুর মধ্যেই সংগ্রামী মানুষ তেমন গভীর আনন্দ খুঁজে পায় না, যেমনটা পায় সন্তানের বেড়ে ওঠার প্রতিটি মুহূর্তে তার পাশে থেকে।

সন্তানের হাসি, প্রথম হাঁটা, প্রথম কথা— এই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাগুলোই মা-বাবার জীবনের গভীরতম তৃপ্তি। অথচ এত স্নেহ-আদরে বেড়ে ওঠা সেই শিশুটি যখন এখনও চারপাশের ভালোবাসা পুরোপুরি বুঝে ওঠার আগেই হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারায়, তখন তা শুধু একটি পরিবারের শোকই নয়— বরং আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের কাঠামোগত ব্যর্থতার নির্মম প্রকাশ। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, এই দেশ এখনো শিশুসহ সাধারণ মানুষের জন্য কতটা অনিরাপদ রয়ে গেছে।

হামে দেশজুড়ে ছোট শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে। ছোটদের এই মৃত্যুগুলোও দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মতো। যেন হত্যা ও মৃত্যুর মাঝখানে দণ্ডায়মান কোনো নির্মমতা। কিছু ক্ষেত্রে এই মৃতগুলো কাঠামোগত হত্যা। কিছু মানুষ রাষ্ট্রের অবহেলায় কত সহজে মরে যেতে পারে— কত ক্ষমতা এই অবহেলার; এই অবহেলা কত নির্মম; কত অসহায় কিছু মানুষ ক্ষমতাবান রাষ্ট্রের কাছে! এই মৃত্যুগুলো আবার আমাদের ক্ষয়ে যাওয়া ব্যবস্থার চিত্র। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দরিদ্র জনগোষ্ঠীই এই মরণরূপী হত্যার শিকার। সেখানে আমাদের পশু ও প্রকৃতিও যেন নিরীহ মানুষের মতো। সম্প্রতি বাগেরহাটে খাঁন জাহান আলীর মাজার সংলগ্ন একটি কুকুরের মর্মান্তিক মৃত্যু সেই বাস্তবতাকে নির্মমভাবে তুলে ধরেছে।

কতো সহজে আমরা হত্যা কে মৃত্যু বানিয়ে ফেলি! একটা পরিবারের ১৩ জন একসাথে সড়কে প্রাণ হারালেন। আমাদের কাছে তবু কিছু হত্যা স্বাভাবিক মৃত্যুই হয়ে যায়; কিছু মানুষ যেন হত্যাযোগ্য হয়েই বাঁচে-মরে। সেই কবে থেকে আমরা মৃত্যুকেও শ্রেণীকরণ করে ফেলেছি! অথচ সব মানুষ, সব মরণ এক হবার কথা ছিল! কি নির্মম আমাদের বিভাজনের এই জীবন ব্যবস্থা! এমন আয়োজন করে হত্যা আর কোথাও কি হয়? কত সস্তা আমার, আপনার ও আমাদের প্রিয় স্বজনদের জীবন! আমাদের রাস্তায়, নদীতে, পাহাড়ে রক্তের দাগ শুকোয় না। আমাদের শোক পুরনো হবার আগেই নতুন করে হত্যা আয়োজন করে হানা দেয়।

বাগেরহাট, সায়েদাবাদ, কিংবা কুমিল্লার রক্তের দাগ শুকানোর আগেই আবার এই বিভৎস হত্যা! আগুনে, পানিতে, পাহাড়ে, হাসপাতালে, বাড়িতে কিংবা গাড়িতে, বাজারে কিংবা সড়কে কত খানে মানুষ মারা যায় আমাদের দেশে। কত সহজে মারা যায় তাজা মানুষ।

ইতালীয় দার্শনিক জর্জিও আগামবেন তার গ্রন্থ Homo Sacer: Sovereign Power and Bare Life (১৯৯৫)-এ বলেন, homo sacer হলো এমন এক মানুষ— যাকে হত্যা করা যায়, কিন্তু সেই হত্যাকে আইনত খুন’ হিসেবে গণ্য করা হয় না এবং তাকে ধর্মীয় বলিদান হিসেবেও গণ্য করা হয় না।

আগামবেনের তত্ত্বের প্রথম অংশ আমাদের নিত্যদিনের অপঘাত, রোগ ও দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুর ঘটনাগুলোর সাথে প্রাসঙ্গিক। জীবনের এই অবস্থাকে তিনি বলেন bare life’ (মূল্যহীন জীবন)—একটি জীবন যা কেবল জৈবিক অস্তিত্বে সীমাবদ্ধ, কিন্তু রাজনৈতিক/নৈতিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত।

হামের টিকা না দেওয়ায় শিশুদের নির্মম মৃত্যু—সড়ক দুর্ঘটনা, অবহেলা, নিরাপত্তাহীনতা—আগামবেনের ভাষায় এগুলোকে শুধু দুর্ঘটনা হিসেবে দেখলে বাস্তবতাকে আড়াল করা হয়। এই অবস্থায় দরিদ্র শিশুরা হয়ে ওঠে homo sacer— তারা বেঁচে আছে, কিন্তু সুরক্ষাহীন তাদের জীবন। তাদের মৃত্যু শোকের বিষয় হলেও রাষ্ট্রের দায়ে রূপান্তরিত হয় না।

দরিদ্র জনগোষ্ঠীই এই হত্যাযোগ্য ও মূল্যহীন জীবনের সহজ শিকারে পরিণত হয়। আগামবেনের তত্ত্ব অনুযায়ী সার্বভৌম ক্ষমতা (রাষ্ট্র, নীতি, অর্থনৈতিক কাঠামো) কিছু মানুষকে ‘পূর্ণ নাগরিক’ হিসেবে রক্ষা করে কিন্তু অন্যদের ধীরে ধীরে ঠেলে দেয় bare life-এর দিকে। নিরাপদ রাস্তা বা স্বাস্থ্যব্যবস্থার অভাব, শিশুদের জন্য সুরক্ষা নীতির দুর্বলতা, শ্রম, বাসস্থান, পরিবেশগত ঝুঁকি দরিদ্র মানুষদের জন্য প্রতিদিনের মৃত্যু ফাঁদ তৈরি করে রাখে। কিন্তু ক্ষমতাবান ও বিত্তশালী শ্রেণী দেশ ও বিদেশের সর্বোচ্চ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম হন।

রাজনীতি, আইন ও আর্থিক কাঠামো সবকিছু তাদের অত্যধিক সুরক্ষা দেয় অতি সহজে।ফলে দরিদ্রদের জীবন ‘কম মূল্যবান’ হয়ে ওঠে—আইনগতভাবে না হলেও বাস্তবতায়। রাষ্ট্র ও সমাজ যখন কিছু জীবনকে যথেষ্ট সুরক্ষা দেয় না, মৃত্যুগুলো নিয়মিত, পূর্বানুমেয়, কিন্তু প্রতিরোধহীন হয়ে পড়ে। দায় কারো ওপর স্পষ্টভাবে বর্তায় না। মানুষ কেবল শোকযোগ্য বস্তুতে পরিণত হয়।
পশু ও প্রকৃতি যেন এই মূল্যহীন ও হত্যাযোগ্য জীবনের বিস্তৃত অংশ।পশুর জীবন তো আইনগতভাবে অনেক ক্ষেত্রেই কম সুরক্ষিত।কিন্তু যখন সমাজ নিরীহ প্রাণীর প্রতিও সহিংস হয়, তখন তা মানুষের ক্ষেত্রেও একই মনস্তত্ত্বকে প্রতিফলিত করে।

Agamben সরাসরি প্রাণীদের নিয়ে homo sacer বলেন নি, কিন্তু তাঁর ধারণা প্রসারিত করলে দেখা যায়: কিছু জীবন ‘killable’ বা হত্যাযোগ্য কিন্তু ‘grievable’ (শোকযোগ্য) কিছু নয়। পশু ও প্রকৃতি প্রায়ই সেই হত্যাযোগ্য ও ‘অশোকযোগ্য’ জীবনের অংশ।ফলে তারাও এক ধরনের bare life—যাদের মৃত্যু স্বাভাবিক ও অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে দেখা হয়।

লৌকিক সমাজের যে কেউ পশু ও প্রকৃতির প্রতি বিরূপ আচরণ করতে পারার অধিকার বোধ করে যা আমাদের সমাজের শোষণপ্রিয় নীতি-কানুন ও অসহায় মানুষদের সুরক্ষার অভাবের বাস্তবতার সাথে সম্পর্কিত। সম্প্রতি বাগেরহাটে কুমিরের হিংস্রতার মুখে একটা কুকুরের অসহায় হত্যা যেন আমাদের সমাজের সহজ বাস্তবতা। এমন কুমিরের রূপে আমাদের চারপাশের ব্যবস্থা ও আইন কানুন এবং শোষক শ্রেণি বিরাজ করছে। আমরা চেয়ে দেখছি অসহায় হয়ে চুপ থাকছি কিংবা শোক প্রকাশ করছি কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছি।

কিছুদিন আগেও কুকুর নিধন দেখেছি কিছু শহরে আবার কুকুরের বাচ্চাকে বস্তাবন্দী করে পানিতে ডুবিয়ে মেরে ফেলার ঘটনাও দেখেছি। সেখানে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কিন্তু আমাদের বিবেকের মধ্যে বৃহত্তর জীবনের জন্য দরদ না জন্মালে এবং ন্যায়বোধের চর্চা সমাজের সবার মধ্যে সমান সুরক্ষা নিশ্চিত না করলে মানুষ অন্য মানুষ এমনকি পশুকেও রক্ষা করতে দরদ দেখাবে না। প্রতিপক্ষ বানাবে চরপাশটাকে। বেশি গতি, বেশি যাত্রী, বেশি মুনাফা লাভের আশায় মানুষ কেবল কম দামি হয়ে উঠবে। রাষ্ট্রের কাছেও মানুষ কেবল ভোটার। তাদের জীবনের বলিদানেই ক্ষমতা নিশ্চিত হয় কিন্তু তারা বছরজুড়ে, আমলজুড়ে, যুগযুগ ধরে হত্যাযোগ্য হয়েই বেঁচে থাকেন।

লেখক: শিক্ষক, ইংরেজি বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। পিএইচডি গবেষক, কার্টিন ইউনিভার্সিটি, অস্ট্রেলিয়া

হাম-রুবেলা
    শেয়ার করুন:
    সচিবালয়ে ২১ তলা ভবনসহ উঠছে ১৭ প্রকল্প

    সচিবালয়ে ২১ তলা ভবনসহ উঠছে ১৭ প্রকল্প

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:০৯

    রনিকে হাবশি গোলাম বললেন ডাকসু নেত্রী জুমা

    রনিকে হাবশি গোলাম বললেন ডাকসু নেত্রী জুমা

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৫৭

    বিনোদনের তারকাখচিত ২৭তম আসর

    বিনোদনের তারকাখচিত ২৭তম আসর

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৩৮

    লোডশেডিং-তেল সংকটে দিশেহারা বীরগঞ্জের কৃষক

    লোডশেডিং-তেল সংকটে দিশেহারা বীরগঞ্জের কৃষক

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪০

    গ্রেপ্তার কে এই আবুঘারবিয়া

    গ্রেপ্তার কে এই আবুঘারবিয়া

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৩৮

    শেয়ার দর বৃদ্ধির পর মালিকানা পরিবর্তনের খবর প্রকাশ্যে

    শেয়ার দর বৃদ্ধির পর মালিকানা পরিবর্তনের খবর প্রকাশ্যে

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫৭

    সেই শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষের অপসারণে আলটিমেটাম বিএনপি নেতাদের

    সেই শিক্ষিকা ও অধ্যক্ষের অপসারণে আলটিমেটাম বিএনপি নেতাদের

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫৬

    বাঘা শরীফ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন

    বাঘা শরীফ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০১

    অবহেলার ক্ষমতা ও অসহায়ের নিরন্তর মৃত্যুযাত্রা

    অবহেলার ক্ষমতা ও অসহায়ের নিরন্তর মৃত্যুযাত্রা

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫৩

    বিলুপ্তির পথে ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’

    বিলুপ্তির পথে ‘বাংলাদেশ টাইগার্স’

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৩৬

    ‘জনস্বাস্থ্যকে বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ’

    ‘জনস্বাস্থ্যকে বৈপ্লবিক রূপ দিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ’

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৯:৫২

    নাম পরিবর্তন হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের

    নাম পরিবর্তন হচ্ছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫০

    ১৪ দিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ দুই উপজেলায়

    ১৪ দিন ধরে তেল বিক্রি বন্ধ দুই উপজেলায়

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২১:২৭

    নতুন টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়েনি সরকার

    নতুন টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়েনি সরকার

    ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ২০:২৩

    সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

    সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দিয়ে ইরান কি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে?

    ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৭