অর্থমন্ত্রী
নতুন টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়েনি সরকার

প্রতীকী ছবি
অর্থনৈতিক গভীর সংকটের মধ্যেও নতুন টাকা ছাপিয়ে বাজারে ছাড়েনি সরকার। ক্ষমতা গ্রহণের দিন ওয়েজ অ্যান্ড মিন্স অ্যাডভান্সের স্থিতিশীল ছিল ১৭ হাজার ৫৯০ কোটি টাকা এবং গত ২২ এপ্রিল এটি কমে ১১ হাজার ১০৩ কোটিতে নেমেছে— এমন তথ্য তুলে ধরলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
নতুন টাকা ছাপার বিষয়টি উড়িয়ে দিলেন অর্থমন্ত্রী। বললেন ‘নতুন করে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড়ানোর সংবাদটি সঠিক নয়। বরং ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকে এখন পর্যন্ত সংকট মোকাবিলায় ঋণ নেওয়ার অঙ্ক কমেছে, টাকা ছাপানোর প্রশ্নই আসে না।’
অর্থনীতির নতুন খাত হিসেবে স্পোর্টস, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব খাতও জিডিপিতে অবদান রাখে, কিন্তু এতদিন এগুলো ছিল উপেক্ষিত
অর্থ সংকটে পড়লে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েজ অ্যান্ড মিন্স অ্যাডভান্স থেকে ঋণ নিয়ে থাকে সরকার।
শনিবার ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলছিলেন অর্থমন্ত্রী।
সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই আলোচনায় সম্প্রতি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত ‘নতুন করে সরকার ২০ হাজার কোটি টাকা ছাপানোর’ সংবাদ সঠিক নয় বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
অর্থমন্ত্রীর সুরেই কথা বললেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তার ভাষ্য, সরকারের অর্থ সংকট হলে দ্রুত মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েজ অ্যান্ড মিন্স অ্যাডভান্স থেকে ঋণ নিয়ে থাকে। সম্প্রতি এ ঋণের অঙ্ক ২৭ হাজার কোটি টাকায় উঠেছিল। সেটি ক্রমান্বয়ে ক্রমে আসছে। কিন্তু অনেকে বলছেন সরকার টাকা ছাপিয়েছে, যা সত্য নয়।
বৈঠকে ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা আসন্ন জাতীয় বাজেটকে কেন্দ্র একগুচ্ছ প্রস্তাব অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
জবাবে মন্ত্রী বললেন, প্রস্তাবগুলো ভালো, বাজেট প্রণয়নের সময় সেগুলো নেওয়া হবে বিবেচনায়।
‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে দেশের অর্থনীতি গর্তে পড়েছে। খুব খারাপ অবস্থা যাচ্ছে। এমন সংকটের মধ্যেও আমরা টাকা ছাপায়নি। বরং বিগত সময়ে টাকা ছাপিয়ে স্থানীয় ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে অর্থনীতির যে ক্ষতি হয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। এই জায়গা থেকে আমরা সরব না। এ ধরনের নীতিতে একদিকে সুদের হার বেড়ে যায়, অন্যদিকে বেসরকারি খাত ‘ক্রাউড আউট’ হয়ে পড়ে, যা কোনোভাবেই টেকসই অর্থনীতির জন্য সহায়ক নয়’— যোগ করেন অর্থমন্ত্রী।
অতীতে পৃষ্ঠপোষকতার রাজনীতির কারণে দেশের অর্থনীতি কিছু মানুষের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তার মতে, অর্থনীতি অলিগার্কদের হাতে চলে গিয়েছিল। এতে অর্থনীতি রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে পড়ে। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতেই সরকার ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের ওপর জোর দিচ্ছে।
আসন্ন জাতীয় বাজেটে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ানোর ঘোষণা দেন। পাশাপাশি এসএমই, গ্রামীণ কুটিরশিল্প, কারিগরি ও সৃজনশীল শিল্প (ক্রিয়েটিভ ইকোনমি) অর্থনীতির মূলধারায় আনতে কাজ করছে সরকার— এমনটি জানালেন অর্থমন্ত্রী।
অর্থনীতির নতুন খাত হিসেবে স্পোর্টস, সংস্কৃতি, থিয়েটার, সিনেমা ও সংগীতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব খাতও জিডিপিতে অবদান রাখে, কিন্তু এতদিন এগুলো ছিল উপেক্ষিত।
অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলার অভাব, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে বেসরকারি খাত চাপে রয়েছে। অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘আন্ডার পারফর্ম’ করছে।
কর জিডিপি অনুপাত বাড়ানোকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে ‘খুবই কঠিন কাজ’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বললেন, ব্যবসা-বাণিজ্য ভালো না হলে কর আদায় বাড়ানো সম্ভব নয়। তবে সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফ কর জিডিপির অনুপাত বাড়ানোর কথা বলে আসছে।



