সতর্কতার মাঝেই ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত শেয়ারবাজারে

ছবি: আগামীর সময়
সপ্তাহজুড়ে স্থিতিশীলতা লক্ষ করা গেছে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই)। যেখানে লেনদেনের বিভিন্ন পর্যায়ে সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল ক্রেতা-বিক্রেতার। সপ্তাহের শুরুতে সরকার ঘোষিত জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় ও মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতি নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা সতর্ক ছিলেন। যার ফলে বাজার জুড়ে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
তবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটে। যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়ায় স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি পুনর্মূল্যায়ন করেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে অবমূল্যায়িত শেয়ারে ক্রয়ের আগ্রহ বাড়ে। পাশাপাশি ডিসেম্বর সমাপনী কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য আর্থিক ফলাফলের প্রত্যাশায় ভালো কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগও বাজার পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে।
বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণে বাজারে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। সাম্প্রতিক সময়ের নির্বাচনের পর বাজারে বড় ধরনের উত্থানের সম্ভাবনা রয়েছে— এমন আশাবাদও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কাজ করেছে, যদিও বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে সেই প্রত্যাশা কিছুটা স্থগিত ছিল।
সব মিলিয়ে সূচকের উন্নতি হলেও বিনিয়োগকারীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে। কারণ সামষ্টিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সপ্তাহ শেষে দেশের প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৪১.৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়ায় ৫,২৯৯ পয়েন্টে। ডিএসই-৩০ সূচক ২৫ পয়েন্ট এবং ডিএসইএস সূচক শূন্য দশমিক ২১ পয়েন্ট বেড়েছে।
আলোচিত সপ্তাহে ডিএসইতে বাজার মূলধন বেড়েছে ১৯১৯ কোটি টাকা। একই সঙ্গে বেড়েছে দৈনিক গড় লেনদেনও। সপ্তাহ জুড়ে ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে ৪৫১৪ কোটি ২৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ৩২৭৩ কোটি ১৬ লাখ টাকার তুলনায় ১২৪১ কোটি ৭ লাখ টাকা বেশি। দৈনিক গড় লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৯০২ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ৮৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বা ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি।
লেনদেন হওয়া ৩৯০টি কোম্পানির মধ্যে ১৯৪টির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিটের দাম বেড়েছে, ১৬৮টির কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৮টির দাম। বাজার মূলধন সপ্তাহ শেষে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৭ হাজার ৫৫০ কোটি টাকায়, যা আগের সপ্তাহের ৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬৩১ কোটি টাকার তুলনায় শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচকের ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। সিএএসপিআই সূচক শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং সিএসসিএক্স সূচক শূন্য দশমিক ৫৭ শতাংশ বেড়ে যথাক্রমে ১৪৮৩২ ও ৯০৯৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।
তবে সিএসইতে লেনদেন কমেছে। সপ্তাহ জুড়ে লেনদেন হয়েছে ১৪৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের ২৪৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকার তুলনায় ৯৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা কম। সপ্তাহে মোট ৩১০টি কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়, যার মধ্যে ১৩৮টির দর বেড়েছে, ১৫১টির কমেছে এবং অপরিবর্তিত ছিল ২১টির।

