ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় বাইকারকে মারলেন ইউএনও

ফুয়েল কর্ডে ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা যুবককে কয়েকটি থাপ্পড় দেন ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। ছবি: আগামীর সময়
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে ফুয়েল কার্ডের ছবির সঙ্গে চেহারার মিল না থাকায় এক মোটরসাইকেল আরোহীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
গতকাল বুধবার বিকেলে ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের চাপারহাট বাজারের লুবানা ফিলিং স্টেশনে। ওই ইউএনওর নাম শামীমা আক্তার জাহান।
প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, উপজেলার চাপারহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক গোলক চন্দ্র অসুস্থ থাকায় তার মোটরসাইকেলে জ্বালানি নেওয়ার দায়িত্ব দেন স্থানীয় এক গ্যারেজ মালিক প্রদীপকে। পরে প্রদীপ ফুয়েল কার্ড ও টাকা দিয়ে তেল নিতে লাইনে পাঠান তার কর্মচারী নদীকে (১৮)।
তারা আরও জানান, নদী লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাকালে তার কাছে আসেন সেখানে দায়িত্ব পালনরত ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান। পরে করেন তার হাতে থাকা ফুয়েল কার্ডটি যাচাই। এ সময় কার্ডের ছবির সঙ্গে নদীর চেহারার অমিল দেখে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই কয়েকটি থাপ্পড় দেন তাকে।
পরবর্তী সময়ে অসুস্থ কলেজ শিক্ষকের মোটরসাইকেল ও ফুয়েল কার্ডের সত্যতা প্রমাণিত হলে ঘণ্টাখানেক পর ছেড়ে দেওয়া হয় ওই যুবককে।
নদী বলেছেন, ‘আমি গ্যারেজ মেকানিক। মালিকের কথায় কার্ড নিয়ে তেল নিতে গিয়েছিলাম একজন অসুস্থ শিক্ষকের জন্য। ইউএনও কোনো কিছু না জিজ্ঞাসা করেই আমাকে থাপ্পড় দেন। কোনো অপরাধ না করেও অপমানিত হয়েছি। আমি এর বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ইউএনও শামীমা আক্তার জাহান জানান, তিনি শুধু মোটরসাইকেলের চাবি নিয়েছিলেন। গায়ে হাত তোলেননি। সঠিক কার্ড ছিল না তার কাছে। নিয়ম না মেনে লাইনে দাঁড়ানোর কারণে চাবি নিয়ে পরে অফিসে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ওই যুবকের অভিভাবক এলে চাবি বুঝিয়ে দেওয়া হয় তাদের কাছে।

