শেকসপিয়ারের জন্মদিন নিয়ে রহস্য

ছবি: ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি
২৩ এপ্রিল বিশ্বজুড়ে উদযাপিত হচ্ছে ব্রিটিশ নাট্যকার উইলিয়াম শেকসপিয়ারের জন্মদিন। অথচ বিস্ময়কর হলেও সত্য, যার জন্মদিনকে ঘিরে এই আয়োজন, তার প্রকৃত জন্মতারিখ নিয়েই রয়েছে ধাঁধা। ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকা এই সাহিত্য মহীরুহের জন্মদিন যেন নিজেই এক রহস্য।
শেকসপিয়ারের জন্মতারিখ নিয়ে নিশ্চিত কোনো নথি নেই। তবে জানা যায়, ১৫৬৪ সালের ২৬ এপ্রিল তাকে চার্চে ব্যাপটাইজড করা হয়েছিল। সে সময় ইংল্যান্ডে জন্মের দুই-তিন দিনের মধ্যেই শিশুদের ব্যাপটাইজড করার প্রচলন ছিল। সেই হিসেব থেকেই গবেষকরা ধরে নেন, তার জন্ম ২৩ এপ্রিলের কাছাকাছি কোনো একদিনে।
এ ছাড়া দিনটি ইংল্যান্ডের জাতীয় দিবস বা ‘সেন্ট জর্জ দিবস’ হওয়ায় ইংরেজদের কাছে এর মহিমা অপরিসীম। তার সঙ্গে মিল রেখেই ধীরে ধীরে এই অনুমানই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তার জন্মদিন হিসেবে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়। ইতিহাসবিদদের একাংশ মনে করেন, ২৩ এপ্রিল তারিখটি নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত নয়। প্রকৃত জন্মদিন ২১ বা ২২ এপ্রিলও হতে পারে। আবার কেউ কেউ ক্যালেন্ডারের পার্থক্যের কথাও তুলে ধরেন। শেকসপিয়রের সময়ে ইংল্যান্ডে জুলিয়ান ক্যালেন্ডার চালু ছিল, যা পরে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে পরিবর্তিত হয়। ফলে তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি আরও বেড়েছে।
তবুও প্রশ্ন থেকে যায়— ২৩ এপ্রিলই কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
এর পেছনে রয়েছে এক প্রতীকী মিল। ১৬১৬ সালের ২৩ এপ্রিলই শেকসপিয়রের মৃত্যুদিবস হিসেবে স্বীকৃত। অর্থাৎ, একই দিনে জন্ম ও মৃত্যু— এই কাকতালীয় মিলই দিনটিকে বিশেষ তাৎপর্য দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই তারিখই বিশ্বজুড়ে তার জন্মদিন হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে।
তবে শেকসপিয়ারের গুরুত্ব কি শুধুই একটি তারিখে সীমাবদ্ধ? একেবারেই নয়। তার রচনাই তাকে সময়ের সীমানার বাইরে নিয়ে গেছে। হ্যামলেটের অস্তিত্ব সংকট, ম্যাকবেথের ক্ষমতার লোভ কিংবা রোমিও জুলিয়েটের প্রেম; সবকিছু আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
মানুষের আবেগ, দ্বন্দ্ব, আকাঙ্ক্ষা ও দুর্বলতাকে তিনি এমনভাবে তুলে ধরেছেন, যা যেকোনো যুগেই সত্য বলে মনে হয়।
শুধু সাহিত্য নয়, ভাষার ক্ষেত্রেও তার অবদান অসামান্য। ইংরেজি ভাষার অসংখ্য শব্দ ও অভিব্যক্তি তার লেখার মাধ্যমে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। নাটক, চলচ্চিত্র, সাহিত্য— সবখানেই তার প্রভাব আজও সুস্পষ্ট।
তাই শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা আর জন্মদিনে এসে থামে না। তিনি ঠিক কোন দিনে জন্মেছিলেন, তা হয়তো আমরা কখনোই নিশ্চিতভাবে জানতে পারব না; কিন্তু এটুকু নিশ্চিত— তার সৃষ্টি কখনো হারিয়ে যাবে না। শেকসপিয়ার তার জন্মতারিখের চেয়েও বড় হয়ে উঠেছেন তার কাজের মধ্য দিয়ে।
আর সেই কারণেই, অনিশ্চিত এক তারিখও তাকে স্মরণ করার জন্য যথেষ্ট হয়ে উঠেছে।

