বাঘা শরীফ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন

উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে আয়োজকরা
লালদীঘি মাঠ লোকে লোকারণ্য। হাজার হাজার লোক। কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র-জনতা, সরকারি বেসরকারি কর্মচারী-কর্মকর্তা, নারী-পুরুষ কে নেই এই ভিড়ের মধ্যে। সবার চোখ রিংয়ের দিকে। শুধু কি চোখ, হাতের মোবাইলও ব্যস্ত দৃশ্যধারণে। পেশাদার সাংবাদিক বা শৌখিন চিত্র সাংবাদিকেরও কমতি নেই। একসঙ্গে এত ক্যামেরা সম্প্রতি দেশের কোনো খেলায় কি দেখা গেছে!
হালের পছন্দের ক্রিকেট কিংবা হামজায় ভর করে নতুন করে উজ্জীবিত ফুটবলের জনপ্রিয়তা ছাড়িয়ে যাচ্ছে যেন এই লোকজ জব্বারের বলীখেলা। সব ক্যামেরা, দৃষ্টির উদ্দেশ্য সুন্দর মুহূর্তটি ধারণ করা— একে অপরকে মাথায় তুলে আছাড় দেওয়ার উত্তেজনাকর মুহূর্তটি। হ্যাঁ, কুমিল্লার মো. শরীফ ওরফে বাঘা শরীফ একই জেলার রাশেদকে ধরাশায়ী করার মুহূর্তটি স্মরণীয়। শরীফ চ্যাম্পিয়ন হন। শুধু চ্যাম্পিয়ন নয়, হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন শরীফ।
শনিবার বিকেলে আবদুল জব্বার স্মৃতি কুস্তি প্রতিযোগিতা বা বলীখেলার ২৫ মিনিটের ফাইনাল খেলাটি দেখার জন্য উৎসুক জনতার ভিড় সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছেন আয়োজকরা। থেমে গেছে নাগরদোলা। সেখান থেকেই দেখছেন কেউ। পাশের ভবনের ছাদ কিংবা পুলিশ কার্যালয়ের পাহাড় থেকে মানুষের ভিড়। শুধু পুরুষ নয়, কিছু নারীও দেখা গেছে ভিড়ের মধ্যে।
এবার বলীখেলা পা রেখেছে ১১৭ বছরে। এই আসরের রানারআপ মো. রাশেদ গতবারও রানারআপ হয়েছিলেন। তৃতীয় হয়েছেন সাভারের মিঠু। কুমিল্লার শাহজালাল চতুর্থ। এর আগে দুই সেমিফাইনালে রাশেদ মিঠুকে হারায়। বাঘা শরীফ এক মিনিটেই একই জেলার শাহজালালের বিরুদ্ধে জয় পান।
অন্তত ১০০ জন বলীখেলার প্রাথমিক রাউন্ডে অংশ নেন। এখানে বৃদ্ধ যেমন ছিলেন তেমনি ছিলেন কুমিল্লার সাইফুল ইসলামের মতো তরুণও। সত্তরোর্ধ্ব পতেঙ্গার খাজা আহমেদ ও হাটহাজারীর মফিজ তো এই বলীখেলার বড় বিজ্ঞাপন হয়ে উঠেছেন।
প্রতি বছর বাংলা ১২ বৈশাখ এই বলীখেলা হয়। বলীখেলা ঘিরে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসে লালদীঘির আশপাশের এলাকায়
প্রাথমিক বিজয়ীদের মধ্যে চারজন কোয়ার্টার ফাইনালে গতবারের সেরা চারজনের সঙ্গে খেলায় অবতীর্ণ হন। এই পথ ধরে পুনরায় শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট পরেন শরীফ। বিজয়ীকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, রানারআপকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও তৃতীয়স্থান অর্জনকারীকে ১০ হাজার টাকা প্রদান অর্থ পুরস্কার ও ট্রফি দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের অতিথি সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান বিজয়ীদের পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে বাংলালিংকের সৌজন্যে অনুষ্ঠিত এই মেলা উদ্বোধন করেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
শতবর্ষী এই বলীখেলা এবং বৈশাখী মেলা সত্যি সর্বজনীন প্রাণের মেলা। এখানে পা পড়ে সমাজের নিম্ন আয়ের লোক থেকে ধনী শ্রেণির। বছরে একটি ঘরের যাবতীয় আবশ্যকীয় জিনিসপত্র যেমন ঝাড়ু, পাপোশ, রান্নার সরঞ্জাম, হাতপাখা, শীতল পাটি, ছাতা সবই মেলে এখানে।
প্রতি বছর বাংলা ১২ বৈশাখ এই বলীখেলা হয়। বলীখেলা ঘিরে তিন দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা বসে লালদীঘির আশপাশের এলাকায়। এবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে মেলা দুই দিন করা হয়। আজ বলীখেলা ও মেলার শেষদিন। ১৯০৯ সালে বকশিরহাটের ব্যবসায়ী আবদুল জব্বার সওদাগর ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যুবসমাজকে উদ্বুদ্ধ করতে প্রচলন করেছিলেন এই বলীখেলার।


