শেয়ার দর বৃদ্ধির পর মালিকানা পরিবর্তনের খবর প্রকাশ্যে

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমসের দুটি কারখানার মধ্যে প্রায় দেড় বছর ধরে নরসিংদীরটি বন্ধ। এছাড়া আরেকটি কারখানা চালু থাকলেও সেটির ব্যবসায় রয়েছে ধারাবাহিক মন্দা। যা কোম্পানিটিকে নিয়ে গেছে লোকসানে। তারপরেও গত ৩ মাস ধরে বাড়ছে কোম্পানির শেয়ার দর।
এ নিয়ে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ তদন্তে নামলেও দর বৃদ্ধির কোন কারণ ছিল না বলে এতোদিন জানিয়ে আসছিল। অবশেষে গোপনে আগেই ছড়িয়ে দেওয়া মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ্যে আনল কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
কারখানা বন্ধ এবং ব্যবসায় লোকসানে থাকার পরেও অস্বাভাবিকভাবে বাড়ছিল ডমিনেজ স্টিলের শেয়ার দর। দেখা গেছে, গত ২৮ জানুয়ারি ডমিনেজ স্টিলের শেয়ার দর ছিল ২৬.০০ টাকায়। যা ২৩ এপ্রিল লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৬০.৬০ টাকায়। অর্থাৎ ৩ মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দর বেড়েছে ৩৪.৬০ টাকা বা ১৩৩ শতাংশ।
ডমিনেজ স্টিলের এই দর বৃদ্ধি নিয়ে তদন্ত করে ডিএসই কর্তৃপক্ষ। তারা কোম্পানি কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চায় দর বৃদ্ধির কারণের ব্যাখ্যা। এর আলোকে কোম্পানির পক্ষ থেকে সম্প্রতি জানানো হয়, কোনো রকম অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ছাড়াই বাড়ছে তাদের কোম্পানির শেয়ার দর।
অথচ কোম্পানিটির মালিকানা পরিবর্তনের চেষ্টা চলছিল এবং সে খবর একটি গ্রুপকে আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়। যাতে শেয়ারটির দর বাড়ছিল। কোম্পানি কর্তৃপক্ষের আগেই অসাধুভাবে এই তথ্য পাঁচারে লাভবান হয়েছে একটি গ্রুপ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শেয়ারবাজার।
ডিএসইর পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘বাংলাদেশে শেয়ারবাজারে অন্যতম সমস্যা কোম্পানির লোকজনের পক্ষ থেকে আগেই তাদের স্বার্থের গ্রুপের কাছে পিএসআই পাঁচার করে দেওয়া। এতে ওই গ্রুপটি লাভবান হলেও সাধারন বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ডমিনেজ স্টিলের শেয়ার দর বৃদ্ধি এবং আজকের মালিকানা তথ্যের প্রকাশও সেরকমই ইঙ্গিত করে। এসব অনিয়ম বন্ধ করতে না পারলে শেয়ারবাজারের এগিয়ে যাওয়া কঠিন।’
আজ শনিবার ডমিনেজ স্টিলের মোট শেয়ারের ৩০ শতাংশ বিক্রির সিদ্ধান্তের খবর জানানো হয়েছে।
কোম্পানির প্রকাশিত পিএসআই অনুযায়ী, আজ অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে উদ্যোক্তা/পরিচালকদের ৩ কোটি ৭ লাখ ৮০ হাজার (৩০.৭৮ মিলিয়ন) শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই শেয়ারগুলো অফ-মার্কেট লেনদেনের মাধ্যমে আলোচনার ভিত্তিতে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হবে।
প্রস্তাবিত ক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে আকিজ রিসোর্সেস লিমিটেড, পাশাপাশি ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারী হিসেবে শেখ জসিম উদ্দিন এবং ফারিয়া হোসেন। কোম্পানি জানিয়েছে, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগিরই ক্রেতাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করা হবে।
লেনদেনটি সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)-এর অনুমোদন নেওয়া হবে। শেয়ার হস্তান্তর প্রক্রিয়া শেষ হলে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়ে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ নেবে।
এদিকে শেয়ারবাজারে আসার পরে ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না ডমিনেজ স্টিলের। এরমধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর ডিএসইর একটি পরিদর্শক দল ডমিনেজ স্টিলের নরসিংদীর কারখানা পরিদর্শনে ওই কারখানাটি বন্ধ পায়। এরপরে ১ বছর ৭ মাস পার হয়ে গেলেও ওই কারখানাটি চালু করতে পারেনি কোম্পানি কর্তৃপক্ষ। যা ডিএসইর ওয়েবসাইটে নিয়মিত জানানো হয় বিনিয়োগকারীদের।
কোম্পানিটির কারখানা বন্ধে ব্যবসায় পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। চলতি অর্থবছর পার করছে লোকসানের মধ্য দিয়ে। এরইমধ্যে ৬ মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫) শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ০.০৯ টাকা। এ হিসাবে ওই সময়ে নিট লোকসান হয়েছে ৯২ লাখ টাকা।

