এএপিআই উৎসবে বাংলাদেশের ঐতিহ্য তুলে ধরল মেরিল্যান্ড বাংলা স্কুল

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে গেল এশিয়ান আমেরিকান অ্যান্ড প্যাসিফিক আইল্যান্ডারের (এএপিআই) হেরিটেজ মাস। হাওয়ার্ড কাউন্টিতে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য উৎসবে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেছে মেরিল্যান্ড বাংলা স্কুল।
‘দ্য কালারস অ্যান্ড সাউন্ডস অব বাংলাদেশ’ শিরোনামের পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে বাংলাদেশের রূপ ও সুরের এক মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা তুলে ধরে স্কুলটির শিক্ষার্থীরা।
গত ৩০ মে হাওয়ার্ড কাউন্টিতে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এএপিআই উৎসবের সূচনা হয় ‘প্যারেড অব কালচারস’ বা সাংস্কৃতিক শোভাযাত্রার মাধ্যমে। বিভিন্ন এশীয় দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটিও এতে অংশ নেয়। মেরিল্যান্ড বাংলা স্কুলের শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক ও শুভানুধ্যায়ীরা যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের পতাকা হাতে শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পালকি, ঢোল, একতারা এবং নানা ঐতিহ্যবাহী উপকরণের উপস্থিতিতে বাংলাদেশি অংশগ্রহণ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর।
কুচকাওয়াজ শেষে মূল মঞ্চে সর্বপ্রথম পরিবেশনার সুযোগ পায় মেরিল্যান্ড বাংলা স্কুল। বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো এই পরিবেশনার শুরু হয় বাংলা নববর্ষের কালজয়ী গান ‘এসো হে বৈশাখ’-এর হৃদয়স্পর্শী সমবেত পরিবেশনার মাধ্যমে। এর সঙ্গে একক নৃত্য দর্শকদের মুগ্ধ করে। অনুষ্ঠানের উপস্থাপক বৈচিত্র্যময় আমেরিকান দর্শকদের উদ্দেশে তুলে ধরেন, নোবেলজয়ী কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা এই গানটি মূলত ‘পুরোনোকে ধুয়ে মুছে এক নতুন শুরুর’ এক উদাত্ত আহ্বান, যা সংস্কৃতি ও নতুনের আবাহনের জন্য এক নিখুঁত সূচনা।
এরপর স্কুলের শিশু শিক্ষার্থীরা ‘গ্রামের বধূ ঘাটে যায়’, ‘দেওরা’, ‘লীলাবালি’ এবং ‘হোক উল্লাস’ শিরোনামের জনপ্রিয় লোকগানের সঙ্গে প্রাণবন্ত নৃত্য পরিবেশন করে। পরিবেশনার মাঝখানে ছিল সুপরিকল্পিত একটি সাংস্কৃতিক ফ্যাশন প্যারেড। পুরো আয়োজন মুখর ছিল দর্শকদের উচ্ছ্বসিত করতালিতে।
উৎসবের উদ্বোধন করেন হাওয়ার্ড কাউন্টির নির্বাহী ক্যালভিন বল। বাংলাদেশি সংস্কৃতির বর্ণাঢ্য ও সরব উপস্থিতি দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির অদূরে অবস্থিত হাওয়ার্ড কাউন্টিতে বিভিন্ন এশীয় দেশের বংশোদ্ভূত বিপুলসংখ্যক মানুষের বসবাস। কাউন্টির মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশেরও বেশি এশীয় বংশোদ্ভূত।
মেরিল্যান্ডের এলিকট সিটিভিত্তিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান মেরিল্যান্ড বাংলা স্কুল গত ১৫ বছর ধরে অঙ্গরাজ্যটির একমাত্র বাংলা ভাষাভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্র হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। প্রতি রবিবার নিজস্ব প্রাঙ্গণে ক্লাসের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি চর্চায় কাজ করে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।




