মাস্কাট স্টেশনে ছয় বছরে লোকসান ৩০৮ কোটি

সংগৃহীত ছবি
টিকিট বিক্রি ও বিপণন প্রতিনিধিদের (জেনারেল সেলস এজেন্ট-জিএসএ) উদাসীনতায় ছয় বছরে ৩০৮ কোটি টাকা লোকসান গুনেছে বিমান বাংলাদেশের মাস্কাট স্টেশন। বিমানের অভ্যন্তরীণ এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে স্টেশনটির বাজেট ব্যবস্থাপনায় ঘাটতি পাওয়া গেছে। দুর্বলতা ধরা পড়েছে ফ্লাইট পরিচালনায়। ২০২৩ সালে ক্যাটারিং চুক্তি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও তা নবায়ন করা হয়নি।
এতসবের পরও মাস্কাট স্টেশনের জিএসএ হিসেবে ‘এম এস বাহওয়ান ট্রাভেল এজেন্সিস এলএলসি’র সঙ্গে তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নবায়ন করেছে বিমান।
২০২৫ সালের আগস্ট মাসে পরিচালিত বিমানের এক নিরীক্ষা (অডিট) প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা গেছে, ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত পুরো সময়ে মাস্কাট স্টেশন লোকসানে পরিচালিত হয়েছে। এই স্টেশন থেকে ছয় বছরে মোট আয় হয়েছে ১ হাজার ৬৮৩ দশমিক ৬০ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৯৯২ দশমিক শূন্য ৫ কোটি টাকা। ফলস্বরূপ ছয় বছরে ক্ষতি হয়েছে ৩০৮ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা।
নিরীক্ষায় দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে স্টেশনটি বিক্রয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫০ শতাংশ বেশি অর্জন করলেও পরের তিন অর্থবছরে চলেছে উল্টোপথে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ১৩ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৫ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১১ শতাংশ কম লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।
প্রতিবেদনে ব্যয় ব্যবস্থাপনায় একাধিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। ওমান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে যাত্রী কর ও অন্যান্য ফি বাবদ ২ হাজার ৭৮৯ ওমানি রিয়াল, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং চার্জ বাবদ ১ হাজার ৪২১ ওমানি রিয়াল এবং হুইলচেয়ার চার্জ বাবদ ২২৫ দশমিক ২৫১ ওমানি রিয়াল অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে। ক্রু আবাসনের বিলে ৬৫০ ওমানি রিয়াল অতিরিক্ত বিল আদায় করা হয়েছে। প্রশাসনিক খাতেও অনুমোদিত বাজেটের চেয়ে বেশি ব্যয় করা হলেও প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া হয়নি। দুর্বলতা ধরা পড়েছে মাস্কাট স্টেশনে ফ্লাইট পরিচালনায়ও।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে অন-টাইম পারফরম্যান্স (ওটিপি) কমে ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছিল, যা আগের বছর ছিল ৬৩ শতাংশ। প্রযুক্তিগত ত্রুটি, আবহাওয়া ও ইমিগ্রেশনজনিত বিলম্বকে এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে। জিএসএ চুক্তি অনুসারে বিক্রয় কাউন্টারে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও, নিরীক্ষাকালে কোনো বাংলাদেশি কর্মীকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়নি— উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
বিমানের বিপণন ও বিক্রয় শাখার পরিচালক আশরাফুল আলম এ ব্যাপারে বলেছেন, ‘অডিটে অনেক বিষয় থাকে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে কী কী আছে, সে সম্পর্কে আমি অবগত নই।’
তবুও চুক্তি নবায়ন: ২০১৭ সাল থেকে ওমানে বিমানের জিএসএ হিসেবে কাজ করছে এম এস বাহওয়ান ট্রাভেল এজেন্সিস এলএলসি। শুরু থেকেই এই এজেন্সিকে কাজ দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন ছিল। তার পরও ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আরও তিন বছরের চুক্তি নবায়ন করা হয়। অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চুক্তি নবায়নের এ প্রস্তাব আসে তৎকালীন কান্ট্রি ম্যানেজার শরীফুল আলমের কাছ থেকে। তার বিরুদ্ধেও আর্থিক অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিমানের সিলেট ডিস্ট্রিক্ট ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত শরীফুল আলম জানিয়েছেন, ‘নিরীক্ষা প্রতিবেদনে কিছু অনিয়ম ধরা পড়া খুব স্বাভাবিক বিষয়।’
অডিট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জিএসএ হিসেবে নানা ব্যর্থতার পরও ওই একই কোম্পানিকে ওমানের কার্গো সার্ভিস এজেন্ট (সিএসএ) নিয়োগ দিতে শরীফুল আলম প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠান।
বিমানের ওমান কান্ট্রি ম্যানেজার মো. জাভেদ তারিক খান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, ‘সিএসএ হিসেবে একই কোম্পানিকে এরই মধ্যে সিলেক্ট করা হয়েছে। তবে হেড অফিসের নির্দেশে এ নিয়োগের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।’




