রোগের সঙ্গে লড়ছি, ক্ষুধার সঙ্গেও

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
বরাবর
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কেশবপুর, যশোর
কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাধারণ শয্যায় শুয়ে ক্ষুধার্ত এই আমি আপনাকে বিনম্র সালাম জানাচ্ছি। সরকার আমাদের তিনবেলা আহারের জন্য ১৭৫ টাকা বরাদ্দ করেছে। মেনু কার্ডে রয়েছে— সকালে দুটি সিদ্ধ ডিম, চিড়া, চিনি ও সবরি কলা; দুপুরে আর রাতে ভাতসহ সপ্তাহে তিন দিন মাছ-মুরগি আর এক দিন খাসির মাংস। কিন্তু প্লেটে যা আসে, তা দেখে আমার মনে হয় আপনাদের রোগীর পেটের চেয়ে নিজেদের পেটের দিকেই নজর বেশি। খাসির মাংসের দেখা মেলে না, ব্রয়লার মুরগির যে ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র টুকরোটির দেখা মেলে, তা এক নদী ঝোলের মধ্যে ডুবে থাকে। দেখে মনে হয়, রোগীর বদলে মাংসের ওই টুকরোটি নিজেই প্রোটিনের দাবিদার।
হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ৫০টি হলেও প্রতিদিন প্রায় ১০০ রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু রান্নার ঘরে খোঁজ নিয়ে জানলাম, রান্না হয় সেই আদিকালের ৫০ জনের হিসাবেই। ফলে অর্ধেক রোগী খাবার পান না, আর যারা পান, তারাও খাবারের মান দেখে ডাস্টবিনে ফেলে দিতে বাধ্য হন। তাহলে ফলাফল কী দাঁড়াল? প্লাস-মাইনাস= মাইনাস। অর্থাৎ টাকা, পরিশ্রম, খাদ্য সবই যাচ্ছে ডাস্টবিনে।
ঠিকাদার বোধহয় ভদ্রলোক। আর ভদ্রলোকের তো এক কথা! মুরগির মাংসের সাইজ না বদলানোর রহস্য এটাই
এসব দেখে রোগশোক নিয়েও হাসপাতালের ইতিহাসের পাতা ওল্টাতে শুরু করলাম। না জানি আরও কী কী আছে! পেয়েও গেলাম। ২০১৩-১৪ অর্থবছরের পর মামলার কারণে আর কোনো নতুন দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। ফলে একই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ৩৬ বছর ধরে এই হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্নভাবে খাদ্য সরবরাহের রেকর্ড গড়েছে! এই দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকে দেশের কত সরকার পরিবর্তন হলো, মুদ্রাস্ফীতি ঘটল, কিন্তু ঠিকাদার ও খাবারের ক্ষুদ্র আকার বদলাল না! িঠকাদার বোধহয় ভদ্রলোক। আর ভদ্রলোকের তো এক কথা! মুরগির মাংসের সাইজ না বদলানোর রহস্য এটাই!
শুনেছি দেশের অধিকাংশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিত্রও একই। মানহীন, অস্বাস্থ্যকর খাবারে জেরবার রোগীদের জীবন। পেটে খেলে তবে না পিঠে সয়! রোগের সঙ্গে লড়ছি, আবার ক্ষুধার সঙ্গেও। ফলে কোনদিন আবার মেজাজ হারিয়ে সব রোগীসহ ভাতের প্লেট নিয়ে আপনার েকায়ার্টারে হাজির হই, তার ঠিক নেই। বলছি না এমনটা হবেই। কিন্তু হতেও তো পারে! তাই বলছি যে আগে আগে মানসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করলে ভালো হয় না?
ইতি
ভর্তি থাকা এক রোগী




