টাক সমস্যার প্রধান কারণ বংশগত

বয়স ত্রিশের কোটা ছুঁই ছুঁই করতেই যেন মাথার সামনের দিকটা ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। চিরুনি চালালেই উঠে আসছে একগুচ্ছ চুল। দেখা দিচ্ছে চওড়া টাক। ক্রমে বাড়ে তার ব্যাপ্তি। আয়নার সামনে সজোরে জানান দিচ্ছে, ফিকে হয়ে আসছে তারুণ্যের উদ্দাম দিন। এর প্রভাব পড়ছে আত্মবিশ্বাসে। বাংলাদেশের সিংহভাগ পুরুষের টেকো মাথার গল্প এটি। সেই গল্পে খলনায়ক হিসেবে বারবার হাজির করা হয় মানসিক চাপ আর দূষণকে। কিন্তু আসল কারণ কি সত্যিই তাই?
আসল কারণ কী
চুল পড়ার পেছনে অনেকেই কেবল লাইফস্টাইল বা টেনশনকে দায়ী করেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। এর পেছনে রয়েছে আরও বড় এবং জটিল কিছু কারণ।
• হরমোন ও বংশগতির খেলা: পুরুষের চুল পড়ার সবচেয়ে বড় কারণ ‘অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া’। একে সহজ ভাষায় বলা হয় ‘মেল প্যাটার্ন ব্লডনেস’। এটি মূলত হরমোনের প্রভাব এবং বংশগত কারণে হয়ে থাকে।
• ত্বকের রোগ বা ইনফেকশন: মাথার ত্বকে ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা অন্য কোনো জটিল চর্মরোগ থাকলে চুল দ্রুত ঝরে যায়।
• শরীরের ভেতরের রোগ: একে বলা হয় সিস্টেমিক ডিজিজ। শরীরের ভেতরের কোনো অর্গানের সমস্যা বা অটোইমিউন ডিজিজের কারণেও চুল পড়তে পারে।
• পুষ্টির অভাব: খাবারে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজের অভাব থাকলে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যায়।
অনেকে ভাবেন, মানসিক চাপের কারণে বুঝি পুরো মাথা টাক হয়ে যায়। চিকিৎসকরা বলছেন, তীব্র মানসিক চাপে হয়তো সাময়িকভাবে দু-চারটা চুল পড়তে পারে। কিন্তু স্থায়ীভাবে টাক হয়ে যাওয়ার পেছনে মূল ভূমিকা হরমোন আর বংশগতির।
আধুনিক চিকিৎসা
টাক পড়ে যাচ্ছে দেখে ভেঙে পড়ার দিন এখন শেষ। বর্তমানে বাংলাদেশে বসেই এর আধুনিক চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব। চিকিৎসকরা এখন বেশ কিছু কার্যকর উপায়ে এর সমাধান করছেন।
• মেডিকেশন ও ওষুধ: প্রাথমিক অবস্থায় ওষুধের মাধ্যমে চুল পড়া রোধ করা সম্ভব।
• পিআরপি থেরাপি: এটি বেশ আধুনিক ও জনপ্রিয় চিকিৎসা। রোগীর নিজের রক্ত থেকেই প্লাজমা নিয়ে মাথায় ইনজেকশন দেওয়া হয়। এতে সুপ্ত হেয়ার ফলিকল আবার প্রাণ ফিরে পায়।
• হরমোনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি: হরমোনের ভারসাম্যের অভাব থাকলে এই থেরাপি চমৎকার কাজ করে।
• হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট: যখন কোনোভাবেই আর চুল গজাচ্ছে না, তখন সার্জিক্যাল পদ্ধতিতে হেয়ার ফলিকল প্রতিস্থাপন করা হয়।
পুরুষরা সাধারণত নিজের শরীরের যত্ন নিতে অবহেলা করেন। এবার নিজের প্রতি একটু যত্নশীল হোন। চুল পড়া সমস্যা দেখা দিলে সরাসরি একজন ভালো ডার্মাটোলজিস্টের পরামর্শ নিন।
লেখক: বিভাগীয় প্রধান, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল


