লোডশেডিং-তেল সংকটে দিশেহারা বীরগঞ্জের কৃষক

সংগৃহীত ছবি
চলমান তেল সংকট ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বড় ধরনের চাপের মুখে দেশের কৃষি খাত। সেচনির্ভর মৌসুমে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পেরে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার কৃষক। ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আশানুরূপ উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কা তাদের।
মরিচা ইউনিয়নের মাহাতাবপুর গ্রামের কৃষক সানাই মাড্ডি এ বছর ইরি চারা রোপণ করেছেন প্রায় ৩০০ শতাংশ জমিতে। তিনি ‘আগামীর সময়’কে বলেন, মৌসুমের শুরুতে সেচ কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও মাঝামাঝি সময়ে এসে জ্বালানি সংকট ও লোডশেডিংয়ের কারণে আমি জমিতে সেচ দিতে পারছি না। সেচের অভাবে জমির মাটি প্রায় দুই ইঞ্চি পর্যন্ত ফেটে গেছে। ডিজেল ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। রাত ১০টায় পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায় না।
একই ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেছেন, ‘ইরি ক্ষেত শুকিয়ে যাচ্ছে। পানি দিতে পারছি না ঠিকমতো। এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে পাঁচ ঘণ্টা লোডশেডিং। এই অবস্থায় চাষাবাদ করা কঠিন।’
একই উপজেলার ১০ নম্বর মোহনপুর ইউনিয়নের চিলকুড়া গ্রামের কৃষক মোজাফফর হোসেন জানান, ধার-দেনা করে জমি আবাদ করেছেন তিনি। কিন্তু সেচ সংকটের কারণে উৎপাদন কম হওয়ার আশঙ্কা করছেন। শেষে মানুষের ধারের টাকা পরিশোধ করবেন কীভাবে তা নিয়ে চিন্তিত তিনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শরিফুল ইসলাম জানান, এ বছর বীরগঞ্জ উপজেলায় ইরি ধান চাষ হয়েছে মোট ১৪ হাজার ৭৬০ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরুতে তেমন সমস্যা না থাকলেও বর্তমানে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব দেশের ওপর পড়েছে।
তার ভাষ্য, ‘তেল সংকটের কারণে কৃষকদের সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কৃষকদের ফুয়েল কার্ড পাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় সুপারিশ করছি আমরা। তবে পাম্পে ডিজেল সরবরাহ আমাদের নিয়ন্ত্রণে নয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহেও সমস্যা থাকায় আরও জটিল হয়েছে পরিস্থিতি।’

