তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাসভুক্ত ৭ দেশ

ছবি: রয়টার্স
ওপেক প্লাসভুক্ত সাতটি দেশ জুলাই মাসে সম্মিলিতভাবে দৈনিক অপরিশোধিত তেল উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়াতে সম্মত হয়েছে। জুন মাসেও একই পরিমাণ উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রস্থান বিবেচনায় নিয়ে মে ও এপ্রিলের ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল দৈনিক বৃদ্ধির তুলনায় কমানো হয়েছিল জুনের বৃদ্ধি।
ভার্চুয়াল বৈঠকে রবিবার বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতি ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা পর্যালোচনার পর সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান এই সিদ্ধান্ত নেয়।
স্বেচ্ছায় উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে এটি টানা চতুর্থ মাসের উৎপাদন কোটা বৃদ্ধি। তবে বর্তমানে হরমুজ প্রণালির অবরোধের কারণে অতিরিক্ত সীমিত এই তেলের বাস্তব সরবরাহ।
এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত মোট প্রায় ৬ লাখ ব্যারেল দৈনিক উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছে এই সাত দেশ।
তেলবাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে তারা ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঘোষিত অতিরিক্ত স্বেচ্ছা উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত থেকে দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আগামী মাস থেকে কার্যকর হবে এই সমন্বয়।
ওপেক প্লাস জানিয়েছে, বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঘোষিত অতিরিক্ত স্বেচ্ছা উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত আংশিক বা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হতে পারে এবং তা ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করা হবে।
দেশগুলো আরও জানিয়েছে, তারা বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন চালিয়ে যাবে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে সতর্ক অবস্থান বজায় রাখা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থগিত বা আবার কমানোর পূর্ণ নমনীয়তা ধরে রাখার গুরুত্বও পুনর্ব্যক্ত করেছে তারা।
সাতটি দেশ বলেছে, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে অতিরিক্ত উৎপাদনের ক্ষতিপূরণ দ্রুত পূরণ করার সুযোগ দেবে এই পদক্ষেপ।
তারা যৌথভাবে ‘ডিক্লারেশন অব কোঅপারেশন’-এর প্রতি পূর্ণ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে। এর মধ্যে অতিরিক্ত স্বেচ্ছা উৎপাদন সমন্বয়ও রয়েছে, যা তদারকি করবে যৌথ মন্ত্রিপর্যায়ের পর্যবেক্ষণ কমিটি (জেএমএমসি)।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে অতিরিক্ত উৎপাদিত যেকোনো পরিমাণ পুরোপুরি সমন্বয় করার ইচ্ছার কথাও নিশ্চিত করেছে তারা। ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এই ক্ষতিপূরণ কার্যক্রমের সময়সীমা।




