ইসমাইল বাঘাই
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না ইরান

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি : এক্স
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসছে না ইরান। এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই স্পষ্টভাবে এ কথা বলেছেন।
তবে তিনি জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে ‘অস্থায়ী একটি নৌপথ’ তৈরির কাজ করছে তেহরান।
সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আরও জানিয়েছেন, কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে অস্থায়ী নৌপথ চালুর লক্ষ্যেই মাসকাটের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
আধা সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাঘাই বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করাই ওমানের সঙ্গে আমাদের বর্তমান আলোচনার মূল বিষয়।’
তিনি আরও বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যত দ্রুত সম্ভব ওমানের সহযোগিতায় একটি অস্থায়ী নৌপথ তৈরির কাজ করছি।’
বাঘাই জানিয়েছেন, দুই উপকূলীয় দেশের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী নৌপথ তৈরিকে কেন্দ্র করেই আলোচনা চলছে। এতে ওমানের জলসীমার মধ্য দিয়ে দক্ষিণের নৌপথ এবং ইরানের জলসীমার মধ্য দিয়ে উত্তরের নৌপথকে একত্র করে দ্বিমুখী একটি নৌপথ তৈরি করা হবে।
তিনি বলেছেন, ‘বর্তমান আলোচনা দুইমুখী একটি নৌপথ নিয়ে, দুই বা তিনটি আলাদা পথ নিয়ে নয়।’
স্থায়ী বিকল্প নৌপথ চালু না হওয়া পর্যন্ত এই ‘অস্থায়ী নৌপথ’ কার্যকর থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের আলোচনা চলছে—এমন খবরও প্রত্যাখ্যান করেছেন বাঘাই। তিনি বলেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা করছি না।’
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, সোমবার বিকেলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা শুরু হবে। হরমুজ প্রণালি এবং ইরানের ‘পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ’ নিয়ে দ্রুত একটি সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন তিনি।
বাঘাই আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ তার আগ্রাসন ও অবরোধ চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না।’
৮ জুলাই থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয়েছে। ওয়াশিংটন ইরানের ভেতরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। জবাবে তেহরান কয়েকটি আরব দেশে, বিশেষ করে জর্ডান, বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সরঞ্জাম রয়েছে বলে দাবি করা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়।
জুনে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা শুরুর পর এই উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা এবং বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধের কারণে আলোচনা থমকে যায়।
সূত্র : রয়টার্স







