সংশয় নিয়েই শুরু ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা

সংগৃহীত ছবি
সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টকে শুরু হয়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি আলোচনা। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং আঞ্চলিক সংঘাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গভীর মতপার্থক্যের কারণে আলোচনা ঘিরে শুরু থেকেই ছিল সংশয়।
নির্ধারিত সময়ের দুই দিন পর রবিবার শুরু হয় এই আলোচনা। বাংলাদেশ সময় বিকেল পাঁচটায় বৈঠকের প্রথম পর্ব শুরু হয়ে চলে প্রায় ৮০ মিনিট। এরপর দেওয়া হয় বিরতি। পরে কাতার ও ইরানের প্রতিনিধিদলের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় পৃথক আলোচনা। প্রথম ধাপের আলোচনার বিস্তারিত কোনো পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, বৈঠকের আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে হাত মেলানো বা ছবি তোলার প্রস্তাবে রাজি হয়নি ইরানি প্রতিনিধিদল।
এদিকে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সমঝোতা স্মারকে থাকা সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে একটি টেকসই ও স্থায়ী চুক্তির পথে অগ্রগতি আনার লক্ষ্যেই চলছে এই আলোচনা।
আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার। ইরানের পক্ষে ছিলেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ছিলেন কাতার ও পাকিস্তানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিরাও।
প্রথম ধাপের আলোচনায় ইরানের জব্দ থাকা সম্পদ অবমুক্ত করা এবং জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান ইরানি প্রতিনিধি হোসেইন গুরবানজাদেহ। তার ভাষ্য, তেল ও তেলজাত পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল নিয়ে তৈরি হয়েছে একটি প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাবও।
আলোচনা শুরুর আগে একে গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুলরহমান বিন জসিম আল থানি। তার মতে, এই উদ্যোগ শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ইরানকে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার জন্য দায়ী করেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। তবে আলোচনায় অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও উন্নতির জন্য একসঙ্গে কাজ করতে পারে দুই দেশ।
এই বৈঠক আয়োজনের জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তার প্রত্যাশা, আলোচনা বয়ে আনবে ইতিবাচক ফলাফল।
এদিকে আলোচনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে হুঁশিয়ার করেন ট্রাম্প। লেবাননে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম নিয়ে সতর্ক করে আবারও হামলার হুমকি দেন তিনি।
এর জবাবে পাল্টা হুঁশিয়ারি দেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি এক্সে দেওয়া পোস্টে উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিকে গুরুত্ব দেওয়া হয় না এবং প্রয়োজনে পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে ইরান।
আলোচনায় মূলত গুরুত্ব পাচ্ছে তিনটি ইস্যু। এগুলো হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইরান যেন পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে, অন্যদিকে তেহরান বলছে তাদের কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আলোচনার জন্য নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অল্প সময়ে সফল সমঝোতায় পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ হলেও তা অর্জিত হলে তৈরি হবে একটি নতুন ইতিহাস।




