ঘাঁটি ব্যবহারে ‘না’, ট্রাম্পের চাপের মুখেও অনড় যুক্তরাজ্য

সংগৃহীত ছবি
ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে নিজের ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি যুক্তরাজ্য। এ সিদ্ধান্তে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সঙ্গে টানাপোড়েন আরও বাড়তে পারে ট্রাম্পের।
যুক্তরাজ্য সরকারের সূত্রগুলো বলছে, ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি কেবল ‘সম্মিলিত আত্মরক্ষা’–সংক্রান্ত অভিযানের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ থাকবে, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবিলার জন্য।
যুক্তরাজ্যের এ অবস্থান এমন সময় এল, যখন ইরানকে হরমুজ প্রণালীর অবরোধ তুলে নিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন ট্রাম্প। সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এ ধরনের হামলা।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এক মুখপাত্র বলেছেন, ঘাঁটি ইস্যুতে অপরিবর্তিত রয়েছে যুক্তরাজ্যের অবস্থান। ব্রিটিশ ঘাঁটির ব্যবহার অবশ্যই সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে।
এ ঘটনায় চাপ তৈরি হয়েছে লন্ডন ও ওয়াশিংটনের দ্বি-পাক্ষিক সম্পর্কে। সম্প্রতি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেইনের সঙ্গে তুলনা করেছেন ট্রাম্প, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে আপসনীতির প্রসঙ্গকে ইঙ্গিত করে।
উল্লেখ্য, ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নেভিল চেম্বারলেইন (১৮৬৯–১৯৪০) ছিলেন কনজারভেটিভ পার্টির একজন প্রভাবশালী রাজনীতিক। ১৯৩৭ সালের মে থেকে ১৯৪০ সালের মে পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর প্রাক্কালে নাৎসি জার্মানির প্রতি তাঁর ‘তোষণ নীতি’ অ্যাপিজমেন্ট পলিসি) এবং ১৯৩৮ সালের মিউনিখ চুক্তি বিশেষভাবে আলোচিত। ওই চুক্তির মাধ্যমে জার্মানির সঙ্গে সমঝোতার পথে থেকে যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি।

