ইস্তাম্বুলের স্কুলে ছাত্রীর ছুরি হামলায় নিহত ১, সংবাদ প্রকাশে নিষেধাজ্ঞা তুরস্কের

ফাইল/রয়টার্স
ইস্তাম্বুলে একটি মাধ্যমিক স্কুলে ১৫ বছর বয়সী এক ছাত্রী ছুরি হামলা চালিয়ে আট শিক্ষার্থীকে আহত করেছে। পরে আহতদের একজন মারা গেছে বলে জানিয়েছেন তুরস্কের কর্মকর্তারা।
ইস্তাম্বুলের বাসাকশেহির জেলার শেইখ শামিল ইমাম হাতিপ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মঙ্গলবার সকালে এ হামলা হয়। হামলার আগে ১৫ বছর বয়সী ওই ছাত্রী লক্ষ্যবস্তু করা বিদ্যালয়টির ইউনিফর্ম পরে ছদ্মবেশ নিয়েছিল বলে জানিয়েছেন দেশটির শিক্ষামন্ত্রী ইউসুফ তেকিন।
জেলা গভর্নরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে হামলাটি হয়। পরে সন্দেহভাজনকে আটক করে কর্তৃপক্ষ। সে অন্য একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দশম শ্রেণির ছাত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কামাল মেমিশওগ্লু বলেন, হামলায় আট শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দুজনের অবস্থা গুরুতর থেকে সংকটাপন্ন।
তিনি বললেন, ‘আহত আট শিক্ষার্থীর চিকিৎসা আমাদের হাসপাতালগুলোতে চলছে। আমরা তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।’
পরে আহত শিক্ষার্থীদের একজন মারা গেছে বলে নিশ্চিত করেন তেকিন। বিদ্যালয়টির ক্লাস মঙ্গলবার ও বুধবার স্থগিত করা হয়েছে।
ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রচারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ইস্তাম্বুলের তৃতীয় ফৌজদারি শান্তি আদালত। তুরস্কের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরটিইউকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তদন্ত সুরক্ষিত রাখা এবং ‘সন্দেহভাজনদের আটক নিশ্চিত করার’ প্রয়োজনেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
ইমাম হাতিপ স্কুলগুলো রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে পরিচালিত ধর্মীয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এসব বিদ্যালয় মূলত ইমাম ও নামাজ পরিচালনাকারী ধর্মীয় নেতাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সরকারের আমলে এসব বিদ্যালয়ে এখন তুরস্কের মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পড়াশোনা করে।
সমালোচকদের অভিযোগ, এসব বিদ্যালয়ের সম্প্রসারণের ফলে ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত হামলাটি রাজনৈতিক বা আদর্শিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল—এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
সূত্র: ইউরো নিউজ




