বিভিন্ন দেশের সান ক্রিমে কেন ব্যাগ ভরছেন পর্যটকরা?

সংগৃহীত ছবি
ভ্রমণে গিয়ে স্যুভেনির হিসেবে ফ্রিজের ম্যাগনেট, চাবির রিং কিংবা শোপিস কিনে আনার দিন বুঝি এবার শেষ! রূপচর্চাপ্রেমী পর্যটকদের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে এখন শুরু হয়েছে এক নতুন ট্রেন্ড।
সিউল থেকে প্যারিস, কিংবা কলম্বিয়ার কার্টাহেনা সবখানেই পর্যটকদের এখন প্রধান আকর্ষণ স্থানীয় ফার্মেসি আর কসমেটিকসের দোকানগুলো।
আর তাদের প্রধান লক্ষ্য একটাই, ভাইরাল ও কার্যকর সব সানস্ক্রিন বা সান ক্রিম সংগ্রহ করা।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ২০১০ সালের পর থেকে মানুষের লাইফস্টাইলে বড় বদল এসেছে। আগে রোদে পুড়ে ত্বক তামাটে করাকে ফ্যাশন মনে করা হলেও, এখন সচেতন মানুষ বোঝেন রোদের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বক বুড়িয়ে যাওয়া এবং ক্যানসারের জন্য দায়ী।
আর সোশ্যাল মিডিয়ার স্কিনকেয়ার কালচার এই সচেতনতাকে পৌঁছে দিয়েছে আকাশচুম্বী উচ্চতায়। ফলে সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের জন্য সানস্ক্রিন এখন দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ।
সবচেয়ে বেশি ভিড় জমছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোতে। দক্ষিণ কোরিয়ার নামকরা কসমেটিকস চেইন ‘অলিভ ইয়ং’ জানিয়েছে, ২০২৫ সালে তাদের মোট অফলাইন বিক্রির ২৫ শতাংশেরও বেশি এসেছে বিদেশি পর্যটকদের পকেট থেকে!
সিউলের মিয়ংডং শাখায় প্রতিদিন সকাল-বিকেল পর্যটকরা খালি সুটকেস আর বড় শপিং ব্যাগ নিয়ে আসছেন কেবল সান ক্রিম কেনার জন্য। একইভাবে, টিকটকের বদৌলতে প্যারিসের সাধারণ ফার্মেসিগুলো এখন ট্যুরিস্ট স্পটে পরিণত হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, এই সানস্ক্রিন শিকারীদের বড় অংশই আমেরিকার বাসিন্দা। আমেরিকার কড়া নিয়মের কারণে ইউরোপ বা কোরিয়ার নতুন ও উন্নত প্রযুক্তির ইউভি ফিল্টারগুলো সে দেশে পাওয়া যায় না। চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশের সান ক্রিমগুলো প্রযুক্তির দিক থেকে আমেরিকার চেয়ে কয়েক দশক এগিয়ে। তাছাড়া কোরিয়ান সান ক্রিমগুলো এত চমৎকার যে, মাখলে ত্বক আঠালো বা চুনকাম করার মতো সাদা হয়ে যায় না, বরং ত্বকের সাথে একদম মিশে যায়।
অনলাইনে এসব পণ্য কিনতে গেলে দিতে হয় চড়া শুল্ক ও বাড়তি দাম। তাই রূপচর্চাপ্রেমীরা ভাবছেন, বাড়তি টাকা অনলাইনের পেছনে না ঢেলে সেই টাকা দিয়ে সরাসরি এশিয়া বা ইউরোপে একটা ট্যুর মেরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ! একেই তারা বলছেন ট্রাভেলার ম্যাথ।
সানস্ক্রিন প্রেমীদের কেনাকাটার প্রস্তুতিও বেশ চোখে পড়ার মতো। ভ্রমণের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই তারা রেডিট বা বিভিন্ন বিউটি ব্লগ ঘেঁটে নোট অ্যাপে পছন্দের সানস্ক্রিনের তালিকা তৈরি করেন। যেমন ইউরোপে গেলে লা রোশ-পোসে বা স্পেনের ইজডিন, আর কোরিয়ায় গেলে বিউটি অফ জোসিয়ন কিংবা রাউন্ডল্যাব।
অনেকে তো ভ্রমণের শেষ দিনটি বাদ দিয়ে কর্মদিবসের সকালে দোকানে যান, যাতে ভিড় এড়িয়ে ঠান্ডা মাথায় ফ্রেশ ও আসল পণ্যটি বেছে নেওয়া যায়। কোনো কোনো পর্যটক তো বিদেশ থেকে ফেরার সময় পুরো এক লাগেজ ভর্তি করে ৫০-৬০টি সানস্ক্রিনের বোতল নিয়ে ফিরছেন বন্ধু ও প্রিয়জনদের উপহার দেওয়ার জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সানস্ক্রিন কেনাকাটা এখন শুধু রূপচর্চায় সীমাবদ্ধ নেই, এটি ভ্রমণের একটি দারুণ অভিজ্ঞতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো দেশের বিউটি শপে সময় কাটানো মানে সেই দেশের লাইফস্টাইল ও ওয়েলনেস কালচারকে কাছ থেকে জানা।
বিদেশ থেকে আনা একটি ভালো সানস্ক্রিন প্রতিবার ব্যবহারের সময় পর্যটকদের মনে করিয়ে দেয় সেই সুন্দর ছুটির দিনগুলোর কথা। চকোলেট বা পারফিউমের মতোই এটি এখন হয়ে উঠেছে ভ্রমণের এক মধুর ও জীবন্ত স্মৃতি।





