মোদি সরকারের বিরুদ্ধে ‘কিডন্যাপ’-এর অভিযোগ ধ্রুব রাঠির

ধ্রুব রাঠি
সরকারের সমালোচনা করলেই কি হেনস্থার মুখে পড়তে হবে? গণতন্ত্রে প্রশ্ন তোলার অধিকার কি তবে অপরাধ? ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনা ফের এই প্রশ্নগুলিই সামনে এনে দিয়েছে। তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘কিডন্যাপ’ বা অপহরণ বলে দাবি করেছেন ধ্রুব। তার অভিযোগ, যেভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা কোনও স্বাভাবিক আইনি প্রক্রিয়া নয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের আমলে বিরোধী কণ্ঠের স্বাধীনতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে।
রবিবার, ১১ অক্টোবর, প্রকাশিত ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন ধ্রুব রাঠি। তার দাবি, শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়িতে ঘুমিয়ে থাকার সময় প্রায় ৫০ জন ব্যক্তি সেখানে ঢুকে পড়েন। তার মায়ের বাধা সত্ত্বেও তারা ঘরে প্রবেশ করেন এবং তাঁকে শোওয়ার ঘর থেকে তুলে নিয়ে যান। এমনকি, জুতো পরারও সুযোগ দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তার। ধ্রুবর আরও দাবি, তার এবং তার বাবা -মায়ের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও তার বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক হওয়ার যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে গোদি মিডিয়া থেকে। সেই দাবিও তিনি নস্যাৎ করে নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখান ভিডিওতে।
ধ্রুবর বক্তব্য, কাউকে গ্রেফতার করা হলে তার কারণ জানানো এবং আইন মেনে পদক্ষেপ করা জরুরি। কিন্তু তার ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ। তাই এই ঘটনাকে নিছক আটক হিসেবে দেখতে রাজি নন তিনি। তার কথায়, তাকে যেভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা অপহরণ।
ঘটনাটির নেপথ্যে রয়েছে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে প্রতিবাদ। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে বিক্ষোভের আবহে এই ঘটনা ঘটে। দিল্লির যন্তর মন্তরে কক্রোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিবাদ কর্মসূচির আগে ধ্রুবকে আটক করা হয়েছিল। শনিবার রাতে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। উল্লেখ্য যে তিনি বিক্ষোভ অংশও তখনও নেননি। তাঁর বাড়ি থেকেই 'অপহরণ' করা হয়।
ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধী দল ও প্রতিবাদীদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় বহু বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে এবং আরও বাদ পড়তে পারে। তাঁদের আশঙ্কা, এর ফলে প্রান্তিক ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ভোটাধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
ধ্রুবর এই অভিযোগের মধ্য দিয়ে ফের সামনে এসেছে গণতন্ত্রের মৌলিক প্রশ্ন - সরকারের কাজের সমালোচনা করা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা কি কোনও নাগরিকের অপরাধ হতে পারে? ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহি চাওয়া গণতন্ত্রেরই অংশ। সেই অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে একজন নাগরিককে কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তা নিয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়ার দায়ও প্রশাসনের।



