সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও ধরপাকড় দিল্লিতে

ছবি: হিন্দুস্তান টাইমস
ভারতের দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আটকের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরও ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। রবিবার দেশটির রাজধানীর কনট প্লেস এলাকা থেকে শতাধিক বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) বা সিপিআই (এম) নেতা জন ব্রিটাসও রয়েছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নিতে বিভিন্ন দল ও সংগঠনের সদস্যরা আবারও জড়ো হলে পুলিশ তাদের আটক করে। খবর হিন্দুস্তান টাইমস
প্রায় ১০০ বিক্ষোভকারীকে জোরপূর্বক দুটি বাসে তুলে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, বিক্ষোভকারী সন্দেহে একটি বার্গারের দোকান থেকেও এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই ব্যক্তির দাবি, তিনি একা দাঁড়িয়ে ছিলেন।
বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যাবে না : সুপ্রিম কোর্ট
এর আগে বিক্ষোভকারীদের গণহারে আটক, চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ, ইন্টারনেট সেবা বন্ধ এবং গত ৯ অক্টোবরের আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে করা আবেদনের জরুরি শুনানি হয়। শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের আগে পরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার সমন্বয়ে গঠিত বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশনা দেন।
আদালত বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের আইনানুগ প্রক্রিয়া ছাড়া আটক করা যাবে না। পাশাপাশি দিল্লিতে মেট্রো ও রেলসেবা স্বাভাবিক রাখতে, ইন্টারনেট সংযোগ সচল রাখতে এবং মানুষের অবাধ চলাচল নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেন আদালত।
এ ছাড়া সুপ্রিম কোর্ট ও অন্যান্য আদালত চত্বরের আশপাশে জারি করা নিষেধাজ্ঞামূলক বিজ্ঞপ্তি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতে যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা এবং ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
‘আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলেও আরও জোরদার হবে’
পুলিশের অভিযানের সমালোচনা করে জন ব্রিটাস সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে, যা মৌলিক নিয়মের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আন্দোলন দমনের চেষ্টা করলেও বিক্ষোভ আরও বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্রিটাস বলেন, ‘শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা মানুষের ওপর নির্মম শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। এই আন্দোলন দমনে যত চেষ্টাই করা হোক, এটি আরও বিস্তৃত হবে। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ চালিয়ে যাব। এসব পদক্ষেপ আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে।’
অভিজিৎ দীপ কি উড়োজাহাজ ছিনতাইকারী, প্রশ্ন ব্রিটাসের
অভিজিৎ দীপকে ও অন্যদের আটক করতে পুলিশের উড়োজাহাজে ওঠার বিষয়টি কঠোর সমালোচনা করেন ব্রিটাস। তার মতে, ‘তাদের আটক করতে উড়োজাহাজে ওঠার এত তাড়া কেন? তারা কি উড়োজাহাজ ছিনতাইকারী? এটি বেসামরিক বিমান চলাচলের মৌলিক নিয়মের লঙ্ঘন।’
আটক ব্যক্তিদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে ওই এলাকায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। তার অভিযোগ, একা থাকলেও তাকে মারধর করা হতে পারত।
‘আমি শুধু বিক্ষোভের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলাম। কেউ বিক্ষোভ করলেও সেটি তার অধিকার। তাহলে তাদের আটক করা হচ্ছে কেন, মারধরই বা করা হচ্ছে কেন?’—যোগ করেন তিনি।
এদিকে দিল্লি পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার রাজধানী জুড়ে বিক্ষোভ আয়োজনের চেষ্টার ঘটনায় ২০টির বেশি মামলা হয়েছে। পুলিশের আরোপ করা বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বিক্ষোভের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তাদের।
পুলিশের এক কর্মকর্তার দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্নিত করা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এসব মামলা করা হয়েছে।
সিটিজেনস ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিসের (সিজেপি) আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিং বলেন, বিষয়টি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ানোই পরিস্থিতির গুরুত্ব বহন করে। তার প্রশ্ন—রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কেন মানুষের মৌলিক অধিকার বারবার লঙ্ঘন করা হচ্ছে।




