নেহরুকে ছাড়িয়ে মোদির বার্তা, ‘কংগ্রেসের কুচক্র থেকে মুক্ত ভারত’

নরেন্দ্র মোদি— রয়টার্স
ভারতের ইতিহাসে দীর্ঘতম সময় ধরে একটানা প্রধানমন্ত্রী থাকার নতুন নজির গড়লেন নরেন্দ্র মোদি। টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পালন করতে থাকা মোদি ভেঙে দিলেন দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর রেকর্ড। ২০১৪ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদে থাকা মোদি এই ঐতিহাসিক মাইলফলকের দিনেই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। ভাষণে তিনি কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করেন এবং একই সঙ্গে তার সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরেন।
ভাষণে মোদি বলেছেন, ‘এমন দিন আসতে পারে তা আমি ভাবিনি। এটা মানুষের আশীর্বাদ আর দলীয় কর্মীদের কঠোর পরিশ্রম ছাড়া অসম্ভব ছিল।’
তিনি বলেছেন, ‘২০১৪ সালের আগে দেশে অনেক সমস্যা ছিল। কিন্তু তারপর থেকে মানুষ এক স্থিতিশীল সরকারের কাজ দেখছে। সরকার কী করতে পারে, সেটা উপলব্ধি করছে। এত বছর ধরে তারা এই সরকারের ওপর ভরসা রেখেছে, এটা জনগণের সমৃদ্ধ মানসিকতার লক্ষণ।’
দেশবাসীর প্রত্যাশার প্রসঙ্গ টেনে মোদি বলেছেন, ‘১৪০ কোটির দেশ আমাদের কাছ থেকে অনেক আশা করে। সেই সব আশা পূরণ করার কাজই করে যেতে হবে।’
কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কংগ্রেস দেশকে হাজার হাজার কোটির দুর্নীতির মধ্যে ফেলেছিল। ২০১৪ সালের আগে উন্নয়নের জায়গা ছিল। যে কাজ করতে বছরের পর বছর লেগে যেত, এখন মাসের মধ্যেই হয়ে যায়। আসলে কংগ্রেসের কুচক্র থেকে স্বাধীনতা পেয়েছে দেশ।’
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রসঙ্গেও কংগ্রেসকে নিশানা করেন মোদি। তার দাবি, ‘‘কংগ্রেসের নীতির কারণেই দীর্ঘদিন ভারত ধীর অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ফাঁদে আটকে ছিল। সেই সময়ের মন্থর বৃদ্ধির হারকেই ‘হিন্দু গ্রোথ রেট’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল।’’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘কংগ্রেস দেশকে অসহায়তা, দুর্দশা এবং হীনম্মন্যতার মানসিকতার মধ্যে ঠেলেছিল। মানুষের মনে ধারণা তৈরি করা হয়েছিল যে, ভারতে দ্রুত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সেই মানসিকতা ভেঙেই দেশ এখন নতুন গতিতে ছুটছে।’
ভাষণের শেষাংশে মোদি বলেছেন, ‘দেশের মানুষ কখনো আমার সরকারকে নিরাশ করেননি। ভবিষ্যতেও জনতাকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যাব। ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্রই দেশের সামগ্রিক অগ্রগতির ভিত্তি। রাজ্যগুলোর উন্নয়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাজ্য এগোলে তবেই এগোবে দেশ।’
তথ্যসূত্র : আজকাল




