সামাজিক মাধ্যমে ককরোচ নেতা
বিক্ষোভ দমনে এবার 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল'

ছবি: রয়টার্স
বিরোধীদের আন্দোলন দুর্বল করতে কি ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ কৌশল নিচ্ছে নরেন্দ্র মোদি সরকার? যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ করতে গিয়ে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা, অজিঙ্ক্য শিন্দেসহ একাধিক কর্মী আটক হওয়ার পর এ প্রশ্নই তুললেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। নিজের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে গতকাল মঙ্গলবার এক পোস্টে এ জিজ্ঞাসা ছুড়ে দিয়েছেন তিনি। ঠাকুরমার শেষকৃত্য ও শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে অংশ নিতে বর্তমানে তিনি নিজ গ্রাম মহারাষ্ট্রের হিংগোলির সন্তুক পিম্পরির পৈতৃক ঠিকানায় রয়েছেন। পারিবারিক কাজ শেষে আবার ভারতের রাজধানী দিল্লিতে পৌঁছাবেন।
দীপকের অভিযোগ, বিরোধীদের একজোট হতে না দিয়ে পৃথকভাবে আন্দোলন সামলানোর চেষ্টা করছে সরকার। কখনো প্রতিবাদস্থল বদল, কখনো প্রশাসনিক বিধিনিষেধ, আবার কখনো আন্দোলনকারীদের আটক— এ পদ্ধতির মধ্যেই বিভাজনের রাজনীতি দেখছেন তিনি। দীপকের বক্তব্য, ‘এক যাত্রায় পৃথক ফল’— বিরোধীদের আন্দোলনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের এই আচরণই সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে প্রতিবাদ জানাতে গতকাল জাতীয় পতাকা হাতে যন্তর মন্তরে পৌঁছেছিলেন সিজেপির কর্মীরা। কিন্তু বিক্ষোভস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করতেই তাদের আটক করে দিল্লি পুলিশ। রাজধানীতে প্রতিবাদের পরিচিত ঠিকানা যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্দিষ্ট স্থান হিসেবে বাদ দেওয়ার পর এ ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। দীপকের অভিযোগ, যন্তর মন্তরে প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত করে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
আটকের পর পুলিশের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ তুলেছে সিজেপি। দলের দাবি, সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কাসহ আটক নেতাদের মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের আইনজীবীদেরও দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। দলের আইনজীবীদের বক্তব্য, বারবার আবেদন জানিয়েও তারা আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি। ফলে আটক নেতাদের আইনিসহায়তা ও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে এই অভিযোগগুলোর বিষয়ে দিল্লি পুলিশের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দীপকের বক্তব্য, যন্তর মন্তর শুধু একটি প্রতিবাদস্থল নয়, রাজধানীতে গণতান্ত্রিক অসন্তোষ প্রকাশেরও পরিচিত মঞ্চ। সেখানে প্রতিবাদের সুযোগ সীমিত হলে আন্দোলনকারীদের সামনে বিকল্প কী থাকবে, সে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তার অভিযোগ, বিরোধী দল, ছাত্রসংগঠন এবং তরুণ আন্দোলনকারীদের আলাদাভাবে মোকাবিলা করে বৃহত্তর আন্দোলনের ঐক্য দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। এ কৌশলকেই তিনি মোদি সরকারের ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ নীতি বলে ব্যাখ্যা করেছেন।
ভোটার তালিকার সংশোধন (এসআইআর) এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিরোধীদের আন্দোলনের মধ্যেই এ ঘটনা ঘটল। প্রশাসনের বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট প্রতিবাদস্থল ও বিধিনিষেধ মানা জরুরি। কিন্তু সেই বিধিনিষেধ কার্যকর করার সময় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং আটক ব্যক্তিদের আইনি সুযোগ কতটা সুরক্ষিত থাকছে, তা নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দীপকের দাবি, প্রতিবাদের কণ্ঠস্বর আটকে রেখে গণতান্ত্রিক অসন্তোষকে মুছে ফেলা যাবে না।



