কলকাতায় মহররমে অস্ত্র ও ডিজে নিষিদ্ধ

ফাইল ছবি
মহররম উপলক্ষে কলকাতা জুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে একগুচ্ছ নির্দেশ জারি করেছে লালবাজার পুলিশ। শহরের সব থানাকে জানানো হয়েছে, মহররমের শোভাযাত্রায় কোনো ধরনের অস্ত্র প্রদর্শন করা যাবে না। একই সঙ্গে ডিজে বাজানো, অতিরিক্ত উচ্চতার তাজিয়া তৈরি এবং নতুন শোভাযাত্রার অনুমতি নিয়েও কড়া অবস্থান নিয়েছে কলকাতা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বহু বছর ধরে যে শোভাযাত্রাগুলো নিয়মিত বেরিয়ে আসছে, শুধু সেগুলোকেই অনুমতি দেওয়া হবে। নতুন কোনো শোভাযাত্রার অনুমোদন দেওয়া হবে না। প্রশাসনের মতে, উৎসবের আবহে আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য।
মঙ্গলবার সংশ্লিষ্ট ডিসি ও থানার আধিকারিকদের নিয়ে একাধিক বৈঠকে এই নির্দেশিকা তুলে ধরা হয়। সেখানে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, শোভাযাত্রার সময় তরবারি, লাঠি বা অন্য কোনো ধরনের অস্ত্র প্রকাশ্যে প্রদর্শন করা যাবে না। পাশাপাশি তাজিয়ার উচ্চতা এমন হতে হবে যাতে রাস্তার ওপরে থাকা বিদ্যুতের তার, কেবল লাইন বা অন্যান্য পরিকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি না হয়।
শব্দদূষণ নিয়েও সতর্ক পুলিশ। নির্দেশ অনুযায়ী, কোনো শোভাযাত্রায় ডিজে ব্যবহার করা যাবে না। মাইক ব্যবহার করা হলেও তা আদালত নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে রাখতে হবে। প্রশাসনের আশঙ্কা, অতিরিক্ত শব্দ বা উসকানিমূলক বার্তা কখনো কখনো অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনার পরিবেশ তৈরি করতে পারে। সেই কারণে মিছিলের বক্তব্য ও প্রচার নিয়েও নজরদারির কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিভিন্ন রাজ্যে ধর্মীয় শোভাযাত্রা ঘিরে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই আগাম সতর্কতার পথ বেছে নিয়েছে প্রশাসন। নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদেরও মত, উৎসবের সময় পুলিশ ও আয়োজকদের মধ্যে সমন্বয় যত বেশি হবে, অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সম্ভাবনা তত কমবে। শহরের বিভিন্ন মহররম কমিটির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে নিয়মগুলো স্পষ্ট করে জানাতে বলা হয়েছে থানাগুলোকে। আয়োজকদের সহযোগিতা নিয়েই শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে পুলিশ।
শুক্রবার শোভাযাত্রার রুটগুলোয় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনবহুল এলাকা এবং সংবেদনশীল স্থানগুলোয় বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। প্রয়োজনে নজরদারি ক্যামেরা ও মোবাইল ফোন টহলদারি আরও বাড়ানো হতে পারে।
পুলিশের ভাষ্য, ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনে কোনো বাধা নয়, বরং সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এই নির্দেশনার উদ্দেশ্য। কলকাতা পুলিশের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা নষ্ট করার চেষ্টা হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শহরে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
কলকাতার ধর্মীয় নেতা কাওসার জামাল মহররম উপলক্ষে মানুষের কাছে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার আবেদন জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, মহররম সত্য, ন্যায় ও নৈতিক মূল্যবোধের পক্ষে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয় এবং এই সময় সব অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে পালন করা উচিত।




