দেশ সংকটে পড়লে আনন্দ পান বিরোধীরা : মোদি

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি
দিল্লিতে ভোটার তালিকা সংশোধন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন গুজরাট থেকে পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণ শানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে দেশে আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগ তুলে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোকে নিশানা করেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ, দেশ যখন সংকটে পড়ে, তখন কিছু বিরোধী নেতা আনন্দ পান। মানুষের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলাই তাদের লক্ষ্য।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) গুজরাটের বনাসকাঁঠার ভিলডিতে এক জনসভায় মোদি বলেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সার ও রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা হয়েছে। তার কথায়, ‘কৃষকদের বলা হয়েছিল, দেশে সার পাওয়া যাবে না। মহিলাদের ভয় দেখানো হয়েছিল, রান্নার গ্যাসের অভাব হবে। কীভাবে রান্না হবে, কীভাবে সন্তানদের স্কুলে পাঠানো হবে, এসব প্রশ্ন তুলে আতঙ্ক ছড়ানো হয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বাড়লেও এর বোঝা ভারতীয় কৃষকদের ওপর চাপতে দেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। তার বক্তব্য, আন্তর্জাতিক বাজারে এক বস্তা ইউরিয়া সারের দাম প্রায় তিন হাজার টাকা হলেও ভারতের কৃষকেরা তা ৩০০ টাকার কমে পাচ্ছেন। ডিএপি সারের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য পাঁচ হাজার টাকা ছাড়ালেও ভারতে তা ১ হাজার ৩৫০ টাকায় দেওয়া হচ্ছে।
এদিন পিএম-কিসান সম্মান নিধি প্রকল্পের ২৪তম কিস্তির অর্থও ছাড় করেন মোদি। তার দাবি, প্রায় ১০ কোটি কৃষকের ব্যাংক হিসাবে ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ পাঠানো হয়েছে। গত কয়েক বছরে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের ৫০ লাখ কোটি টাকার বেশি সুবিধা দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে উন্নয়নমূলক প্রকল্পের মঞ্চেও রাজনৈতিক সংঘাতের প্রসঙ্গ এড়িয়ে যাননি প্রধানমন্ত্রী। কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের সাম্প্রতিক মন্তব্যের জবাবে মোদি বলেন, ‘জীবনের শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত আমি মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকব।’
উল্লেখ্য, দিল্লির রামলীলা ময়দানে রোববার ‘ভোট চুরি’র অভিযোগে সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এর আগে শনিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে প্রতীকী ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচিরও পরিকল্পনা রয়েছে বিরোধীদের। এমন রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে গুজরাট থেকে মোদির আক্রমণকে কেন্দ্র করে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল।




