স্টল ভাঙতে বুলডোজার, প্রতিবাদে বই হাতে পথে হাজারো মানুষ

সংগৃহীত ছবি
দুর্গাপুজার মণ্ডপের পাশে বাম সংগঠনের বইয়ের স্টলে হামলা, ভাঙচুর এবং কোথাও বুলডোজার নামিয়ে স্টল সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। সেই আবহেই শনিবার ৩১ অক্টোবর কলকাতার কলেজ স্ট্রিটে বই হাতে পথে নামলেন অগণিত মানুষ। তাদের হাতে ছিল রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বঙ্কিমচন্দ্র থেকে শুরু করে মার্কস, আম্বেদকর এবং সমকালীন লেখকদের বই। কোনো রাজনৈতিক দলের পতাকা নয়। প্রতিবাদের ভাষা হয়ে উঠল বই।
কলেজ স্কোয়ারে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তির পাদদেশ থেকে শুরু হয় ‘বইয়ের জন্য হাঁটুন’ কর্মসূচি। কলেজ স্কোয়ার প্রদক্ষিণ করে সেখানেই শেষ হয় মিছিল। লেখক, কবি, শিল্পী, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন। উপস্থিত ছিলেন বামফ্রন্টের প্রবীণ নেতা বিমান বসু, সিপিএমের সুজন চক্রবর্তী এবং সাবেক সাংসদ জহর সরকার।
মিছিলের বিশেষত্ব ছিল, রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে প্রত্যেকে নিজের পছন্দের বই হাতে নিয়ে এসেছিলেন। ছিল না কোনো দলের পতাকা। এমনকি ছিল না আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক স্লোগান। গান, কবিতা এবং বইয়ের মধ্য দিয়েই প্রতিবাদের বার্তা পৌঁছে দেন অংশগ্রহণকারীরা।
শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকারের কথায়, ‘বইয়ের জন্য মানুষকে পথে নামতে হচ্ছে, এটাই অত্যন্ত লজ্জার।’
সাবেক আমলা ও সাংসদ জহর সরকার আরও কড়া ভাষায় বললেন, ‘যারা বইয়ের বিরোধিতা করছেন, তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্যই এই মিছিল।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অশোকনাথ বসু বলছেন, ‘বই শ্রমজীবী মানুষেরও হাতিয়ার।’
বিক্ষোভের নেপথ্যে রয়েছে দুর্গা পুজার সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের বইয়ের স্টলে হামলার অভিযোগ। সিপিএমের দাবি, কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় তাদের বইয়ের স্টল আক্রান্ত হয়েছে। কোথাও বই ছুড়ে ফেলা হয়েছে, কোথাও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে, আবার কোথাও স্টল ভাঙতে বুলডোজার নিয়ে হাজির হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৬ অক্টোবর এন্টালি ও হালতুতে স্টলে হামলা ও বাধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। আবার ঠিক পরদিন ১৭ অক্টোবর যাদবপুরের ৮বি বাসস্ট্যান্ডে বইয়ের স্টল সরাতে বুলডোজার আনার ঘটনা ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায়। এছাড়াও বারাসতের কলোনি মোড় ও চাঁপাডালি মোড়েও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। ১৯ অক্টোবর হাওড়ার চ্যাটার্জিহাটে সিপিএমের বইয়ের স্টল ভেঙে দেওয়া হয়।
এই ঘটনাগুলোর জন্য অবশ্য বিজেপি সমর্থকদের দায়ী করেছে বাম সংগঠনগুলো।
এদিকে সুজন চক্রবর্তীর জানিয়েছেন, এই প্রতিবাদ কেবল একটি মিছিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রতিটি পাড়ায় ভ্রাম্যমাণ বইয়ের হাট ও বইয়ের বিপণি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে



