গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক ধ্রুব রাঠি

ধ্রুব রাঠি। ছবি: রয়টার্স
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভের আগে দেশটির হরিয়ানা রাজ্যের গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করা হয়েছে ধ্রুব রাঠিকে। ভারতীয় এ ইউটিউবারের রাজনৈতিক বিশ্লেষণ দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আজ শনিবার ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে এ তথ্য।
ধ্রুবকে আটক করেছে ভারতের গুরুগ্রাম পুলিশ। হরিয়ানা রাজ্যের এই এলাকা দিল্লির কাছেই।
পুলিশ জানিয়েছে, নির্দেশনা না মানায় আটক করা হয়েছে তাকে।
গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, যন্তরমন্তরে চলমান বিক্ষোভে যোগ দিতে নিষেধ করা হয়েছিল ধ্রুব রাঠিকে।
সিজেপির এ বিক্ষোভ ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে।
আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য সম্প্রতি ধ্রুব রাঠি জার্মানি থেকে ভারতে আসেন। এরপর তিনি বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে যোগ দেন। দিল্লির বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগেই তাকে আটক করা হলো।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে গতকাল শুক্রবার রাতভর অভিযান চালিয়ে অন্তত এক হাজারের মতো মানুষকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশের বরাতে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আটক ব্যক্তিদের মধ্যে প্রায় ২৫০ জন দিল্লির দক্ষিণ-পূর্ব জেলার। তাদের বেশির ভাগকে শাহিনবাগ এলাকার আশপাশ থেকে আটক করা হয়েছে।
২০২০ সালে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে বিক্ষোভের অন্যতম কেন্দ্র ছিল এই শাহিনবাগ এলাকা।
এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে পুরো রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার কথা জানিয়ে স্থানীয় পুলিশ বলছে, মাঠ পর্যায়ে ৩০ হাজারের বেশি পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। দিল্লির সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতেও জোরদার করা হয়েছে নজরদারি।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিভিন্ন শিফটে পুলিশ পরিদর্শক, পুরুষ ও নারী পুলিশ সদস্যদের প্লাটুন এবং অন্যান্য ইউনিট দায়িত্ব পালন করবে। প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে অতিরিক্ত সদস্য ও রিজার্ভ বাহিনী মোতায়েনেরও।
দিল্লির বিভিন্ন জেলার সংযোগস্থলে বিশেষ পুলিশ চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্য দিল্লি ও নয়াদিল্লি জেলার মধ্যবর্তী এলাকা। দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ-পশ্চিম দিল্লির সংযোগস্থলেও বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।
নয়াদিল্লির কাছাকাছি অশোকা রোড ও টলস্টয় রোডের মতো এলাকায় থেকেও বিক্ষোভস্থলে প্রবেশ কঠিন হতে পারে। এসব সড়কে ১০টি ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। সেখানে মোতায়েন রয়েছেন ৩০ জনের বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।



