সন্ত্রাস থেকে বাণিজ্য
আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে মুখ খুললেন জয়শঙ্কর

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর
সীমান্তপারের সন্ত্রাস নিয়ে ভারতের উদ্বেগকে আমেরিকা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছে না বলে মনে করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তার মতে, এই বিষয়টি ভারত- মার্কিন সম্পর্কেও প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে আলোচনা সহজ পথে এগোচ্ছে না। মঙ্গলবার নিউইয়র্কে এশিয়া সোসাইটির এক অনুষ্ঠানে ভারত- মার্কিন সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর।
জয়শঙ্কর বলেছেন, প্রতিবেশী দেশ থেকে সীমান্তপারের সন্ত্রাস বহু বছর ধরে ভারতের অন্যতম প্রধান উদ্বেগ। ভারতের সঙ্গে কাজ করা দেশগুলোর কাছ থেকে এই উদ্বেগের বিষয়ে বোঝাপড়া, গুরুত্ব দেওয়া এবং সহানুভূতি আশা করে নয়াদিল্লি। কিন্তু এই জায়গায় ঘাটতি থাকলে তার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কের ওপর পড়তে পারে।
বাণিজ্য নিয়েও জটিলতার কথা জানান তিনি। জয়শঙ্করের দাবি, ভারত ও আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তির বিষয়ে মোটামুটি একটি বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে। তবে আমেরিকার শুল্কনীতিতে পরিবর্তন নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। মার্কিন বাণিজ্য আইনের ৩০১ ধারার আওতায় নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় চুক্তিটি কবে চূড়ান্ত হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
জয়শঙ্কর বলেন, ভারতের অর্থনীতি ও উৎপাদন কাঠামো আমেরিকার মতো নয়। ভারতে বিপুল সংখ্যক ছোট উৎপাদক, কৃষক এবং কারখানা রয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও বড়
পার্থক্য রয়েছে। তাই বাণিজ্য আলোচনায় ধৈর্য ধরে প্রতিটি বিষয় খুঁটিয়ে দেখা দরকার বলে তিনি মনে করেন।
তবে বাণিজ্য চুক্তি শেষ পর্যন্ত হলে তা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও একটি ভালো জায়গায় নিয়ে যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেন জয়শঙ্কর। এর মধ্যেই ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আমেরিকা সফর করছেন। চুক্তি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
এশিয়া সোসাইটির অনুষ্ঠানে ভারত- চীন সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন জয়শঙ্কর। তার বক্তব্য, কয়েক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো হয়েছে। সীমান্তের পরিস্থিতির উন্নতি হলে সামগ্রিক সম্পর্কও স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় বলে জানান তিনি। বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ইউক্রেন যুদ্ধ এবং ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাতের প্রভাব খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর পড়ছে বলে জানান তিনি। খাদ্য, জ্বালানি, সার ও অর্থ এই চারটি ক্ষেত্রেই বিশ্ব নতুন চাপের মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করেন জয়শঙ্কর।



