দিল্লিতে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোটের বড় সমাবেশ

রামলীলা ময়দানে হাজারো মানুষ সমবেত হয়েছেন। ছবি : সংগৃহীত
ভোটার তালিকা থেকে সাধারণ মানুষের নাম বাদ দেওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল্লিতে সমাবেশ করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। রবিবার রাজধানীর রামলীলা ময়দানে আয়োজিত এ সমাবেশে নেতৃত্ব দিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। এতে অংশ নিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবসহ বিভিন্ন বিরোধী দলের শীর্ষ নেতারা।
‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে ‘চলো দিল্লি’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন রাজ্য থেকে বিরোধী দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা রামলীলা ময়দানে জড়ো হতে শুরু করেন। দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবন থেকে খোলা বাসে সমাবেশস্থলের উদ্দেশে রওনা হন জোটের শীর্ষ নেতারা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, বিহারের বিরোধীদলীয় নেতা তেজস্বী যাদব এবং কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল।
বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক যোগ্য ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এ অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেছে ইন্ডিয়া জোট।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, এ আন্দোলন কোনো একটি রাজনৈতিক দলের স্বার্থের লড়াই নয়। এটি দেশের মানুষের ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার লড়াই। এর আগে শিক্ষার্থী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সমাবেশের আগে কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ বলেছেন, একটি সমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলন শেষ হবে না। প্রতিবাদ আরও এগিয়ে নেওয়া হবে। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেছেন, ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ আন্দোলন কংগ্রেসের জন্য নয়, দেশের মানুষের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য। সাংসদ কপিল সিব্বলও বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে।
সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, উত্তরপ্রদেশে ১ কোটি ২৭ লাখ ভোট কমে যাওয়ার কথা মুখ্যমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন। তবে বিধান পরিষদের নির্বাচনে হারের পরই এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যোগী। এত বিপুলসংখ্যক ভোট বাদ যাওয়ার তথ্য কোথা থেকে এসেছে, সেই প্রশ্ন তুলেছেন অখিলেশ। বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেছেন, সেটি এখন ‘ডবল জিরো’ হয়ে গেছে।
সমাবেশ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। বিভিন্ন প্রতিবেদনে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য এবং প্রায় ১০ হাজার আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে। নজরদারির জন্য বসানো হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। রামলীলা ময়দানকে ভাগ করা হয়েছে ১৪টি নিরাপত্তা অঞ্চলে।
সমাবেশের অনুমতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিরোধীদের টানাপোড়েন থাকলেও শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি আয়োজনের অনুমতি বহাল রয়েছে।




