সরানো হলো মমতার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা দুই ব্যক্তিগত রক্ষী

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি : সংগৃহীত
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বুধবার রাতে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের সূত্রপাত হল। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, তার দীর্ঘদিনের দুই বিশ্বস্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীকে আচমকাই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ সামনে এনে রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও'ব্রায়েন দাবি করেছেন, মমতার কালীঘাটের বাড়ির গেটের সামনেও নিরাপত্তারক্ষী দেখা যায়নি। যদিও প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জেড প্লাস নিরাপত্তা বলয়ে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি এবং তার নিরাপত্তায় কোনও কমতি নেই।
বুধবার রাতে সামাজিক মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করে ডেরেক ও'ব্রায়েন অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে কার্যত কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। তার বক্তব্য, বাড়ির গেটের সামনে নিরাপত্তারক্ষী না থাকায় যে কেউ অনায়াসে ভিতরে প্রবেশ করতে পারতেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকে হঠাৎ করেই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডেরেকের এই অভিযোগ সামনে আসার পরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়, তবে কি সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন আনা হয়েছে?
এই প্রশ্নের জবাবে নবান্নের শীর্ষ সূত্র জানায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা তুলে নেওয়ার অভিযোগের কোনও ভিত্তি নেই। প্রশাসনের দাবি, তিনি এখনও জেড প্লাস নিরাপত্তা পাচ্ছেন এবং সেই ব্যবস্থায় কোনও রকম কাটছাঁট করা হয়নি। তবে বিতর্কের মূল কারণ হিসেবে প্রশাসন দেখছে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বা পিএসও সংক্রান্ত বিষয়টিকে।
নবান্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার নিরাপত্তার দায়িত্বে স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম কুমার দ্বিবেদীকেই রাখতে আগ্রহী। কিন্তু সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিরাপত্তাকর্মীদের দায়িত্ব নির্দিষ্ট রোস্টার মেনে পরিচালিত হয়। ফলে কোনও নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে স্থায়ীভাবে দায়িত্বে রাখার সুযোগ নেই। সেই কারণেই সংশ্লিষ্ট দুই আধিকারিকের পরিবর্তে অন্য কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনের ব্যাখ্যা।
এই ঘটনার পর প্রশাসনিক মহলে অতীতের একটি রাজনৈতিক পর্বও আলোচনায় উঠে এসেছে। সূত্রের দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে শুভেন্দু অধিকারী মন্ত্রী থাকাকালীন তার সঙ্গেও দীর্ঘদিন দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ছিলেন। পরে তিনি রাজনৈতিক শিবির বদল করে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরও কিছু সময় ওই দুই নিরাপত্তারক্ষী তার সঙ্গেই দায়িত্ব পালন করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।
প্রশাসনিক সূত্রের বক্তব্য, সেই সময় শুভেন্দু অধিকারীর পছন্দের নিরাপত্তারক্ষীদের বহাল রাখার আবেদনও গ্রহণ করা হয়নি। শুধু তাই নয়, ওই নিরাপত্তারক্ষীদের একজনকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। পরে তাকে অন্য জেলায় বদলি করা হয় এবং সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছিল বলে প্রশাসনের তরফে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবান্নের বক্তব্য, অতীতে যে প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করা হয়েছিল, বর্তমান ক্ষেত্রেও সেই একই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে। কোনও ব্যক্তি বিশেষের পছন্দ অনুযায়ী নিরাপত্তার দায়িত্ব বণ্টন করা সম্ভব নয়। তবে ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বদল হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামগ্রিক নিরাপত্তা বলয়ে কোনও পরিবর্তন হয়নি এবং জেড প্লাস নিরাপত্তা সম্পূর্ণ বহাল রয়েছে।
অন্যদিকে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তার ভাষ্য, সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তা নিয়ে যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অনভিপ্রেত। তার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের নেত্রীকে না জানিয়েই সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, ফলে তার বাড়ি কার্যত নিরাপত্তাহীন অবস্থায় পৌঁছেছে।
কুণাল ঘোষ দাবি করেন, পুলিশ প্রশাসনের যে স্তর থেকেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকুক না কেন, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে আবেদন জানিয়ে তিনি বলেছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের দুই ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী স্বরূপ গোস্বামী ও কুসুম দ্বিবেদীকে ফের দায়িত্বে ফিরিয়ে এনে আগের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হোক। বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে দেখারও অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।




