এখনও ট্রিগারে রয়েছে আঙুল, সমঝোতা স্মারক প্রসঙ্গে বাঘের গালিবাফ

সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি গভীর অবিশ্বাসের কারণে সবসময় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইরান এবং ‘ট্রিগারে আঙুল’ রেখে করছে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ। এভাবেই সমঝোতা স্বারক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের আধা সরকারি বার্তাসংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
স্পিকার বলেন, ‘আমার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি সন্দেহ ও অবিশ্বাস সবচেয়ে বেশি। এমনকি যদি কোনো চুক্তি চূড়ান্ত হয় এবং তা নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিতও হয়, তবুও তা একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য নয়।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘কূটনৈতিক লড়াইয়ের ক্ষেত্র থেকে সামরিক লড়াইয়ের ক্ষেত্রের দূরত্ব আমার কাছে খুব বেশি নয়, আমাদের আঙুল রয়েছে ট্রিগারে।’
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, বিবেচনায় রয়েছে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি। সেই চুক্তি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রেসিডেন্ট পর্যায়ে। বাঘাই আরও বলেন, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। এর আগে ধারণা দেওয়া হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে জে ডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন ওই অনুষ্ঠানে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালীর ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরান ও ওমান একটি সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলবে বলে জানিয়েছেন ইসমাইল বাঘাই। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে আঞ্চলিক অন্যান্য দেশের সঙ্গেও আলোচনা ও সমন্বয় করা হবে।
তিনি আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই জলপথে স্বাভাবিক নৌযান চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ে একমত হয়েছে দুই দেশ। তবে তার দাবি, এই ব্যবস্থাপনা ইরান নিজ দায়িত্বেই বাস্তবায়ন করবে এবং এতে অন্য কোনো পক্ষের অংশগ্রহণ বা হস্তক্ষেপের প্রয়োজন হবে না।
এ বিষয়ে আল জাজিরার বিশ্লেষক ওসামা বিন জাভেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার উপস্থাপিত খসড়া অনুযায়ী যদি বিষয়গুলো সঠিক হয়, তবে ইরানের নেতৃত্ব এতে সন্তুষ্ট হতে পারে।
তার ভাষ্য, এতে ইরানের বহু দাবি প্রতিফলিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য মূলত ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা হ্রাস করা এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করতে ও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে এটি। তবে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত নয় বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।





