সমঝোতা স্মারকে সাক্ষর করলেন ট্রাম্প-পেজেশকিয়ান

সংগৃহীত ছবি
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের উদ্দেশ্যে সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিকভাবে সাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে এ তথ্য।
এর আগে গত রবিবার একই স্মারকে সাক্ষর করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। সে-সময়ও উপস্থিত ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প, তবে সাক্ষর করেননি তিনি।
এদিকে এই সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিকভাবে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও স্বাক্ষর করেছেন বলে নিশ্চিত করেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আলোচনাকারী দলগুলোর বৈঠক নির্ধারিত থাকলেও ডিজিটাল স্বাক্ষরের কারণে সেখানে আর কোনো সরাসরি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হবে না।
ইরানি মুখপাত্রের দাবি, সমঝোতা অনুযায়ী ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহারের কথা ছিল ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ, বিনিময়ে ইরানের পরিবহন সংক্রান্ত কিছু শর্ত কার্যকরের কথা রয়েছে হরমুজ প্রণালীতে। তবে দাহিয়েহ অঞ্চলে ইসরায়েলি হামলা এবং পরবর্তীতে ইরানের হুঁশিয়ারির পর দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে ইতোমধ্যেই নির্বিঘ্নে বন্দরে প্রবেশ ও প্রস্থান করতে পারছে ইরানি জাহাজ।
বাঘাই আরও বলেন, চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই কার্যকর হয়েছে পারস্পরিক শর্তগুলো। এই সমঝোতায় লেবাননের যুদ্ধ অবসানকে ইরান অভ্যন্তরীণ স্বার্থের সমান গুরুত্ব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রথম ধারায় লেবাননের নাম তিনবার উল্লেখ করে দেশটির অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্বকে সম্মানের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, এই পর্যায়ে ইরান কেবল যুদ্ধ অবসানের
বিষয়টিতেই গুরুত্ব দিয়েছে, পারমাণবিক ইস্যু আপাতত রয়েছে আলোচনার
বাইরে। তবে চুক্তিতে রাখা হয়েছে ৬০ দিনের একটি কঠোর সময়সীমা, যার মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে আলোচনা চলবে
এবং প্রয়োজনে বাড়ানো যাবে সময়সীমা।
ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি আলোচনার বাইরে থাকবে বলেও উল্লেখ করেন বাঘাই। তার ভাষায়, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কেবল ব্যবহারের জন্য, আলোচনার জন্য নয়। তিনি স্পষ্ট করেন, কোনো পক্ষের সঙ্গেই প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে আলোচনা করবে না তেহরান।





