ফেসবুক থেকে বিশ্বকাপে ইতিহাস উইসার

কঙ্গোর হয়ে বিশ্বকাপে প্রথম গোল করেছেন উইসা। ছবি: সংগৃহীত
১৬ বছর বয়সে ফ্রান্সের একটি ক্লাবের যুব দলে খেলতেন ইয়োয়ান উইসা। তখনই গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গো জাতীয় দলে খেলার আগ্রহটা জানান অভিনব উপায়ে। তিনি নিজের সম্পর্কে কিছু তথ্য জানিয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে বাবার দেশের ফুটবল ফেডারেশনের কাছে পাঠান, এই আশায় যদি একটা সুযোগ মেলে। এর ঠিক তেরো বছর পর, এই স্ট্রাইকার কেবল বিশ্বকাপেই পৌঁছাননি, বরং কঙ্গোর ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলদাতা হওয়ার গৌরবও অর্জন করলেন!
পর্তুগালের বিপক্ষে কঙ্গোর হয়ে সমতাসূচক গোলটি করেন উইসা। এর আগে ১৯৭৪ সালে 'জাইর' নামে বিশ্বকাপে খেলেছিল কঙ্গো। তখন নিজেদের খেলা একমাত্র বিশ্বকাপে তিনটি ম্যাচই হেরেছিল এবং একটি গোলও না করে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিয়েছিল তারা।
গোলরক্ষক থেকে স্ট্রাইকার এবং রাগবি ম্যাচ
ফ্রান্সে কঙ্গোলিজ বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া ২৯ বছর বয়সী উইসার ক্যারিয়ারের পথটা আর দশটা নামী স্ট্রাইকারের মতো সহজ ছিল না। মাত্র সাত বছর বয়সে গোলরক্ষক হিসেবে তার ফুটবল যাত্রা শুরু । এরপর তিনি মিডফিল্ডে খেলেন এবং আরও পরে তাকে আক্রমণভাগের পজিশনে নিয়ে আসা হয়। ফুটবলে পুরোপুরি মনোযোগ দেওয়ার আগে, ১৫ বছর বয়স পর্যন্ত তিনি রাগবিও খেলেছেন।
শাতোরু ক্লাবের একাডেমিতে সুযোগ পাওয়ার পর সেখানেই তার পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু হয়। এরপর লরিঁয়ে ক্লাবে থিতু হওয়ার আগে তিনি খেলেন অঁজে, লাভাল ও আজাক্সিওতে। ২০১৯/২০ মৌসুমে তিনি লরিয়ঁ-এর হয়ে ফ্রেঞ্চ দ্বিতীয় বিভাগের শিরোপা জেতেন এবং ২০২১ সালে ব্রেন্টফোর্ডে যোগ দেন। সেখানেই ইংলিশ ফুটবলে নিজের এক আলাদা পরিচিতি তৈরি করেন তিনি।
প্রিমিয়ার লিগে সাফল্য ও নিউক্যাসলে দলবদল
গতি, শারীরিক শক্তি এবং উইং ও সেন্ট্রাল-দুই পজিশনেই খেলেন উইসা। ক্লাবের হয়ে নিজের শেষ মৌসুমে তিনি প্রিমিয়ার লিগে ১৯ গোল করেছিলেন। পাশাপাশি তিনি কঙ্গোর প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ইংলিশ লিগের একটি একক আসরে ১০টির বেশি গোল করার রেকর্ড গড়েন।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নিউক্যাসল ইউনাইটেড তাকে দলে ভেড়ায়। তবে, জাতীয় দলের হয়ে খেলার সময় হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ায় তার নতুন ক্লাবের হয়ে মাঠে নামতে সময় লেগেছিল অনৈকটা।
জাতীয় দল এবং মাঠের বাইরের 'কভো'
কঙ্গো জাতীয় দলের হয়ে উইসার অভিষেক হয় ২০২০ সালে। তবে তিনি পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন ২০২৪ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত আফ্রিকা কাপ অব নেশনস টুর্নামেন্টে। সেখানে তিনি দুটি গোল করে দলকে সেমিফাইনালে নিয়ে গিয়েছিলেন।
মাঠের বাইরে তিনি অমায়িক, বিনয়ী এবং ভক্তদের খুব কাছের মানুষ হিসেবে পরিচিত। কঙ্গোতে ভক্তরা তাকে ভালোবেসে 'কভো' নামে ডাকেন, যার অর্থ ‘ন্যাড়া মাথার মানুষ’।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন,‘সত্যি বলতে, আমি জন্মগতভাবে খুব বেশি প্রতিভাবান নই। কঠোর পরিশ্রম করতে ভালোবাসাটাই আমাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর আমার মনে হয়, আমি খুব একটা খারাপ করছি না।’
পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি নিজেকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেছেন। যে ছেলেটিকে একসময় সুযোগের জন্য ফেসবুকের আশ্রয় নিতে হয়েছিল, সেই ছেলেই এখন কঙ্গোর ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলদাতা।




