বিক্ষোভ নিষিদ্ধের পর ‘গোটা দেশকেই’ যন্তর মন্তর বানানোর হুঁশিয়ারি

নয়াদিল্লির জন্তর মন্তর রোড— সংগৃহীত ছবি
নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। এর সমালোচনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সরকারের বিরুদ্ধে ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার খর্ব করার অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে সোমবার দীপকে লেখেন, ‘তারা জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। হ্যাঁ, এটি আর বিক্ষোভস্থল নয়। কারণ, কাপুরুষ স্বৈরশাসক এমনিতেই জায়গাটিকে যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করেছে। এবার গোটা দেশই জন্তর মন্তর হয়ে উঠবে!’
অন্য একটি পোস্টে দীপকে বলেন, এ সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক স্বাধীনতার ওপর আরও বড় হুমকির প্রতিফলন। তিনি লেখেন, ‘আজ মোদি জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। কাল তিনি গণতন্ত্রকেই তালিকা থেকে বাদ দেবেন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘স্বৈরশাসকের সমস্যা কখনোই বিক্ষোভস্থল ছিল না। সমস্যা ছিল মানুষের প্রতিবাদ করার ধারণাটিই।’
সিজেপি নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাও দিল্লি পুলিশের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। সৌরভ একে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারের ওপর আঘাত বলে অভিহিত করেন। আর বিকল্প বিক্ষোভস্থল নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলেন রাঙ্কা।
এক্সে সৌরভ দাস লেখেন, ‘নরেন্দ্র মোদি জন্তর মন্তরকে ভয় পান কেন? জন্তর মন্তর ভারতের জনগণের।’ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নাগরিক, সংগঠন কিংবা অন্য কোনো অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করেছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সিদ্ধান্তটিকে স্বেচ্ছাচারী আখ্যা দিয়ে সৌরভ বলেন, এটি বিক্ষোভের মৌলিক অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলেছে। তিনি লেখেন, ‘যেভাবে তারা জনগণের যন্তর মন্তরকে তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছেন, তাতে প্রধানমন্ত্রী শিগগিরই ভারত থেকে গণতন্ত্রকেও বাদ দেবেন।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এবার গোটা দেশই যন্তর মন্তর হয়ে উঠছে!’
নতুন ব্যবস্থার সমালোচনা করে আশুতোষ রাঙ্কা ব্যাঙ্গ করে প্রশ্ন করেন, ‘মাউন্ট এভারেস্টকে কেন নির্ধারিত বিক্ষোভস্থল ঘোষণা করা হচ্ছে না?
দিল্লি পুলিশ সোমবার যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান হিসেবে বাদ দেয়। বিকল্প হিসেবে পূর্ব দিল্লির রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দানকে নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভের বিকল্প স্থান খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গঠিত একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দিল্লি পুলিশের কমিশনার অনুরাগ কুমারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নাগরিকেরা যাতে বিক্ষোভ আয়োজনের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য উপযুক্ত বিকল্প স্থান নির্ধারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির সুপারিশেই জন্তর মন্তরকে নির্ধারিত বিক্ষোভস্থলের তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, নতুন নির্ধারিত তিনটি স্থানে বিক্ষোভ আয়োজনের নিয়মকানুন নিয়ে সংশোধিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) আলাদাভাবে জারি করা হবে। এ আদেশের মাধ্যমে ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল জারি করা আগের একটি স্থায়ী আদেশ আংশিক সংশোধন করা হয়েছে।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




