জন্তর মন্তরে বিক্ষোভ ‘অবৈধ’, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা রাহুলের

ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ভারতের বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, জ্ঞানেশ কুমার যত দিন পদে থাকবেন এবং নির্বাচন ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসবে, তত দিন এ লড়াই চলবে।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ছে। গণতন্ত্র ও সংবিধান রক্ষার প্রশ্নে বিরোধীরা কোনোভাবেই পিছিয়ে যাবে না।
সোমবার দুপুরে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে পদযাত্রার কর্মসূচি নিয়েছে ইন্ডিয়া জোট। এতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবসহ বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
পদযাত্রার আগে দেশের তরুণ ও সাধারণ মানুষকেও প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) বন্ধের দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে স্মারকলিপি দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বিরোধীরা।
পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে সোমবার সকাল থেকেই দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। বসানো হয়েছে ব্যারিকেড। যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
দিল্লি মেট্রোর ছয়টি স্টেশন— পটেল চক, জনপথ, রাজীব চক, মণ্ডী হাউস, কেন্দ্রীয় সচিবালয় ও বারাখাম্বা রোডে সকাল ৬টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত যাত্রীদের প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। তবে এসব স্টেশনে ট্রেন পরিবর্তনের সুবিধা চালু থাকবে।
বিরোধীদের এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তুললেও কমিশন বলেছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ নির্ধারিত নিয়ম মেনেই চলছে। ফলে রাহুল গান্ধীদের রাজনৈতিক আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচন ব্যবস্থা নিয়ে আইনি লড়াইও নতুন পর্যায়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এদিকে দিল্লিতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির পরিচিত স্থান জন্তর মন্তরকে বাদ দিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নতুন নির্দেশনায় রাজধানীতে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির জন্য তিনটি বিকল্প স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো রামলীলা ময়দান, বুরারি ময়দান ও সিবিডি ময়দান।
দীর্ঘদিন ধরে জন্তর মন্তরে রাজনৈতিক দল, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের বিক্ষোভ হয়ে আসছিল। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ স্থানটি আর বিক্ষোভের জন্য নির্ধারিত জায়গার তালিকায় থাকছে না।
সম্প্রতি দিল্লিতে একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিশেষ করে ককরোচ জনতা পার্টিসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও যুব আন্দোলনের কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোয় ব্যাপক পুলিশি ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।
বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড দেওয়া, যান চলাচলে বিধিনিষেধ, অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন এবং বিক্ষোভকারীদের আটক করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের চলাচল ও রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও ব্যাহত হয়েছে বলে প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে বিক্ষোভের স্থান পরিবর্তনের সিদ্ধান্তকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জন্তর মন্তরের পরিবর্তে তিনটি নির্ধারিত ময়দানে বিক্ষোভ সীমিত রাখলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করছে প্রশাসন।
বিশেষ করে সরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় বিক্ষোভের কারণে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না হয়, সে লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তবে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের সুযোগ না থাকায় রাজনৈতিক দল ও শিক্ষার্থী সংগঠনগুলোর কর্মসূচির ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। দীর্ঘদিনের পরিচিত এ বিক্ষোভস্থলের পরিবর্তে এখন তাদের নির্ধারিত তিনটি ময়দানেই কর্মসূচি নিতে হবে।




