অশোকা হোটেলে ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’!
- মোদী-শাহের ভূমিকায় বিরোধী সাংসদ, নিশানায় জ্ঞানেশ কুমার

ফাইল ছবি
সংসদের বাইরে এ বার প্রতীকী সংসদ! মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে আগামী ৩০ অক্টোবর দিল্লির অশোকা হোটেলে ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কর্মসূচির পরিকল্পনা করেছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। ভোটার তালিকা সংশোধন ও ‘ভোট চুরি’র অভিযোগ ঘিরে আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিতে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। তার পরেই ১ নভেম্বর রামলীলা ময়দানে বড় সমাবেশ ও ‘দিল্লি চলো’ কর্মসূচির পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে ইন্ডিয়া জোট ।
কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল জানিয়েছেন, ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচিতে জনসমক্ষে জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে প্রতীকী রায় তুলে ধরা হবে। অশোকা হোটেলে প্রস্তাবিত ‘মক পার্লামেন্ট’-এ বিরোধী জোটের সাংসদ ও শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং আইনজ্ঞদেরও আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে। রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতাদের উপস্থিতি ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে এবং ভোটারদের নাম বাদ পড়ার ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি প্রয়োজন। সেই অভিযোগ সামনে রেখেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবি তুলেছে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির। তবে অভিযোগগুলি বিরোধীদের বক্তব্য; সেগুলি প্রতিষ্ঠিত সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।
কিন্তু ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’ কথাটির আইনি অর্থ কী? এটি কোনও স্বীকৃত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়। এখানে ‘ইমপিচমেন্ট’ শব্দটি ব্যবহার করা হচ্ছে প্রতীকী রাজনৈতিক বিচারের অর্থে। অর্থাৎ, একটি মঞ্চে বিরোধীরা নিজেদের অভিযোগ তুলে ধরবেন এবং জনসমক্ষে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের পক্ষে প্রতীকী রায় ঘোষণা করবেন। এর ফলে তার পদে কোনও আইনি পরিবর্তন হবে না।
ভারতের সংবিধানের ৩২৪(৫) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির মতো একই পদ্ধতি ও একই কারণে অপসারণ করা যায়। তার জন্য সংসদের নির্ধারিত সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কোনও রাজনৈতিক দল, জনসভা বা প্রতীকী অধিবেশনের সিদ্ধান্তে তাকে পদ থেকে সরানো সম্ভব নয়।
ফলে ৩০ অক্টোবরের কর্মসূচির তাৎপর্য মূলত রাজনৈতিক। বিরোধীরা এই মঞ্চে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নিজেদের অভিযোগ জনসমক্ষে তুলে ধরে বৃহত্তর আন্দোলনের পক্ষে সমর্থন জোগাড় করতে চাইছে। পরের দু’দিনে সেই প্রচার কতটা রাজনৈতিক জমি তৈরি করতে পারে, নজর থাকবে সে দিকেই।



