জ্ঞানেশের অপসারণ দাবি
১ নভেম্বর দিল্লিতে বিরোধীদের মহাসমাবেশ

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)- এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’। আগামী ১ নভেম্বর দিল্লির রামলীলা ময়দানে মহাসমাবেশের মধ্য দিয়ে আন্দোলনের পরবর্তী পর্ব শুরু হতে পারে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের ১৯টি দলের বৈঠকের পর যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে এই সমাবেশের ঘোষণা করেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি সোনিয়া গান্ধী, তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ বিভিন্ন শরিক দলের নেতারা। শুধু রাজনৈতিক দল নয়, ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদেরও এই কর্মসূচিতে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে সমাবেশের পর আন্দোলন কোন পথে এগোবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। জোটের নেতারা একাধিক বিকল্প নিয়ে আলোচনা করছেন।
সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি ১৯ অক্টোবর সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে বিরোধী নেতাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দিল্লিতে একাধিক মিছিল রাজনৈতিকভাবে সফল হওয়ায় কয়েকজন নেতা ফের বড় জমায়েতের পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলি জনসমক্ষে তুলে ধরতে একটি প্রতীকী সংসদ অধিবেশন আয়োজনের প্রস্তাবও এসেছে। সেখানে তাকে অপসারণের দাবিতে ‘অভিশংসন’-এর আদলে একটি প্রতীকী বিচারপর্ব দেখানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
কংগ্রেসের এক শীর্ষ নেতা জানিয়েছেন, আন্দোলনের পরবর্তী পর্যায় নিয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়নি। তবে দলের নেতৃত্ব পরিকল্পনা তৈরি করছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল আগেই জানিয়েছেন যে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। ১ নভেম্বরের সমাবেশের জন্য ১৭ অক্টোবর দিল্লি পুলিশ কংগ্রেসকে প্রয়োজনীয় অনুমতিও দিয়েছে বলে দল জানিয়েছে।
প্রতীকী সংসদ অধিবেশনের প্রস্তাব
সম্ভাব্য ‘মক পার্লামেন্ট’ বা প্রতীকী সংসদ অধিবেশন সম্পর্কে এম এ বেবি জানিয়েছেন, বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিদের আমন্ত্রণ জানানোর কথা ভাবা হচ্ছে। সেখানে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযোগগুলি তুলে ধরে একটি প্রতীকী বিচারপর্ব আয়োজন করা হবে। তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরার জন্যও একজন থাকবেন। তবে এই আয়োজনের উদ্দেশ্য হবে, কেন জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ করা উচিত বলে বিরোধীরা মনে করছেন, তা জনসমক্ষে তুলে ধরা। এই প্রস্তাব এখনও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
বেবি আরও জানিয়েছেন, পরবর্তী আন্দোলনের বিষয়ে কোনও একটি দল একা সিদ্ধান্ত নেবে না। শরিক দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করেই কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে। আন্দোলনের পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য জোটের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাবও রয়েছে।
নবরাত্রি ও দুর্গাপুজোর কারণে আন্দোলনে যে বিরতি তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ফের গতি ফেরানোই এখন বিরোধীদের লক্ষ্য। এদিকে রাহুল গান্ধী বলেছেন, বিভিন্ন প্রতিবাদকে আলাদা করে না দেখে একসঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। সেই অবস্থানকে সামনে রেখেই ছাত্র সংগঠন ও নাগরিক সমাজকে আন্দোলনে যুক্ত করার পরিকল্পনা করছে ইন্ডিয়া জোট।



