সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড হওয়া ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ দেশে আনতে পারছে না পরিবার

আবুতি ভেল্লিলি। ফাইল ছবি/ রয়টার্স
সৌদি আরবে মাদক পাচারের মামলায় ভারতের কেরালার এক নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। আবুতি ভেল্লিলি নামের ৪১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির বাড়ি কেরালার কান্নুরের পেরিঙ্গাদ এলাকায়। ২৭ সেপ্টেম্বর দাম্মামের কারাগার চত্বরে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
২০২৩ সালে আবুতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেসময় তার চালানো একটি জিএমসি গাড়ি থেকে ৪৩ কেজি মাদক উদ্ধার করা হয়েছিল। দেশটির সরকারি কৌঁসুলির দাবি, ওমান থেকে সড়কপথে সৌদি আরবে মাদকগুলো নেওয়া হয়েছিল। পরে বিশেষ আদালত তাকে মাদক পাচারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেন।
আদালতের ওই রায় পরে আপিল আদালত ও সর্বোচ্চ আদালত বহাল রাখেন। এরপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের জন্য রাজকীয় আদেশ জারি করা হয়।
দাম্মাম কারাগারে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয় কেরালার মাহের পেরিংগাদির বাসিন্দা আবৃত্তি ভাল্লিয়িরের (৪১)। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গ্রেপ্তারের পর তাকে প্রথমে ২৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু পরে সৌদি রাষ্ট্রপক্ষের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারিক আদালত সেই রায় পরিবর্তন করে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ভারতীয় প্রবাসীর পরিবারের পক্ষ থেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তোলা সত্বেও সৌদি আরবের কঠোর সার্বভৌম আইন, মাদকসংক্রান্ত অপরাধে তাদের জিরো-টলারেন্স নীতি এবং ভারতের কৌশলগত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের রাজনৈতিক অবস্থানের কারণেই এ বিষয়ে নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ, রাষ্ট্রদূতকে কোনো তলব বা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি।
তবে বিচার চলাকালে আবুতি দাবি করেছিলেন, অন্য একজন তাকে একটি গাড়ি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, গাড়িতে থাকা প্যাকেটকে তিনি সাধারণ পণ্য বলে মনে করেছিলেন। সেখানে মাদক ছিল, তা তিনি জানতেন না। তার এ দাবি উচ্চ আদালতেও গ্রহণ করা হয়নি।
আবুতির স্ত্রী, কিন্ডারগার্টেনে পড়ুয়া দুই সন্তান এবং চার বোন রয়েছেন। তার বাবা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন।
পরিবারের প্রতিবেশী ও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধি আসলাম চিনান বলেছেন, আবুতি ভ্রমণ ভিসায় সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। চাকরির ভিসা ছাড়া সেখানে আইনগতভাবে গাড়ি চালানোর লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ ছিল না বলেও তিনি জানিয়েছেন।
আসলাম বলেছেন, মামলার পরিস্থিতি নিয়ে পরিবারের অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। তার দাবি, কান্নুরের এক বন্ধু ভিসার বিষয়ে আবুতিকে প্রতারণা করেছিলেন বলে আগে অভিযোগ উঠেছিল। ওমানের এক স্পনসরও তাকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আসলামের ভাষ্য, সৌদি আরবে আবুতির পরিবারের পক্ষে পর্যাপ্ত আইনি সহায়তার খরচ বহন করা সম্ভব হয়নি। এখন তার মরদেহ কেরালায় ফিরিয়ে আনার খরচও পরিবারটির পক্ষে বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
সূত্র- ওয়ান




