আগামীর সময়

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন

বিজেপির হয়ে লড়বেন আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ-হত্যার শিকার সেই নারীর মা

বিজেপির হয়ে লড়বেন আর জি কর হাসপাতালে ধর্ষণ-হত্যার শিকার সেই নারীর মা

সংগৃহীত ছবি

পশ্চিমবঙ্গের আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নৃশংস ধর্ষণ ও হত্যার শিকার সেই তরুণী চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ এবার সরাসরি রাজনৈতিক লড়াইয়ে নামলেন। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর চব্বিশপরগনার পানিহাটি কেন্দ্র থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় বিজেপি তাদের তৃতীয় দফার যে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানেই তার নাম ঘোষণা করা হয়।

২০২৪ সালের আগস্টের সেই মর্মান্তিক ঘটনার পর থেকে আইনি কারণে নির্যাতিতার পরিবারের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল এবং তাকে ‘অভয়া’ হিসেবে সম্বোধন করা হচ্ছিল। তবে নির্বাচনী মনোনয়নের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রত্না দেবনাথের নাম জনসমক্ষে এলো। প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে তিনি বললেন, ‘আমি এই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে লড়তে চাই। বিশেষ করে মায়েদের নিরাপত্তা, নারী অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই আমি নির্বাচনের মাঠে নেমেছি।’

রত্না দেবনাথের প্রার্থী হওয়ার খবরটি প্রকাশ্যে আসার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আন্দোলনকারীরা এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচকভাবে দেখলেও শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে করছে। আর জি কর কাণ্ডের বিচার দাবিতে চলা তীব্র আন্দোলনের রেশ এখনো কাটেনি, যার প্রভাব এই নির্বাচনে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২১ সালের নির্বাচনে এই আসনে তৃণমূলের নির্মল ঘোষ বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। তবে এবার প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। রত্না দেবনাথের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের তীর্থঙ্কর ঘোষ (বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র)। অন্যদিকে বাম দল সিপিএম এই আসনে প্রার্থী করেছে কলতান দাশগুপ্তকে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আর জি কর ইস্যু এবং রত্না দেবনাথের প্রার্থীপদ পানিহাটি আসনে এক হাড্ডাহাড্ডি ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

গত বছর ৯ আগস্ট কলকাতার আর জি কর হাসপাতালে ডিউটিরত অবস্থায় এক নারী চিকিৎসককে ধর্ষণ ও খুন করা হয়। এই ঘটনার বিচার দাবিতে পুরো ভারত উত্তাল হয়ে ওঠে। যদিও অভিযুক্ত সঞ্জয় রায়কে আদালত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন, তবে নির্যাতিতার পরিবার সেই রায় মেনে নেয়নি এবং পূর্ণাঙ্গ বিচারের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, রাজ্য সরকারের দেওয়া ১০ লাখ রুপির ক্ষতিপূরণও এর আগে ফিরিয়ে দিয়েছিল ভুক্তভোগী পরিবারটি।

    শেয়ার করুন: