ছ’বছর পর ফের দিল্লি- গুয়াংঝৌ উড়ান চালু
শি-মোদি বৈঠকের দিনেই চীনের এয়ারলাইন্স সংস্থার বার্তা

গুয়াংঝৌ- নয়াদিল্লি যাত্রীবাহী উড়ান চালু করতে চলেছে চীনের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্স।
ছ’বছরের বিরতির অবসান হতে চলেছে। আগামী ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ফের সরাসরি গুয়াংঝৌ- নয়াদিল্লি যাত্রীবাহী উড়ান চালু করতে চলেছে চীনের অন্যতম বৃহৎ বিমান সংস্থা চায়না সাদার্ন এয়ারলাইন্স। শনিবার সংস্থাটি এই তথ্য জানায়। ঘটনাচক্রে একই দিনে ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্মেলনের ফাঁকে শনিবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। ফলে দীর্ঘ সীমান্ত উত্তেজনার পরে ভারত- চীন সম্পর্ক স্বাভাবিক করার যে ধীর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নতুন বিমান যোগাযোগের ঘোষণা সেই প্রেক্ষাপটে আলাদা তাৎপর্য পেয়েছে।
এয়ারলাইন্স সংস্থা চায়না সাদার্ন জানিয়েছে যে , ২১ সেপ্টেম্বর থেকে গুয়াংঝৌ ও নয়াদিল্লির মধ্যে নিয়মিত যাত্রীবাহী পরিষেবা ফের চালু হবে। দু’দেশের সম্পর্কের দীর্ঘ টানাপড়েনের কারণে এই উড়ানপথ এতদিন বন্ধ ছিল। ২০২০ সালে করোনা অতিমারির সময় ভারত- চীনের সরাসরি বিমান যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে পূর্ব লাদাখে সীমান্ত সংঘাত পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। ওই বছরের গালওয়ান সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় এবং চার জন চীনা সেনা নিহত হওয়ার পর দু’ দেশের সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে তলানিতে এসে ঠেকেছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের অক্টোবরে সীমান্তে সেনা সরানো নিয়ে সমঝোতার পরে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলায়। তারপর থেকেই আকাশপথ ফের খোলার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। চলতি বছরের মার্চে ইন্ডিগো কলকাতা -সাংহাই সরাসরি পরিষেবা চালু করে। এপ্রিল মাসে চীনা বিমান সংস্থা কুনমিং- কলকাতা এবং বেজিং- দিল্লি রুটে পরিষেবা ফেরায়। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে গুয়াংঝৌ- দিল্লি পথ।
ভারত- চীন সম্পর্কের এই নরম হওয়ার প্রক্রিয়ার সঙ্গে মোদি- শি যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ার কাজানে ব্রিকস সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার বৈঠক হয়েছিল। ২০২৫ সালে তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনের ফাঁকেও তাঁদের দেখা হয়। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং জানিয়েছিলেন যে,শনিবার শি ও মোদির বৈঠকের আয়োজন করছে দুই দেশ। চীন দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানো এবং মতপার্থক্য যথাযথভাবে সামলানোর পক্ষে বলেছে। ফলে ছ’বছর পরে দিল্লি- গুয়াংঝৌ আকাশপথ খোলা নিছক যাতায়াতের নতুন সংযোগ নয়। তা দু’দেশের সম্পর্কে জমে থাকা বরফ কিছুটা গলছে কি না, তারও একটি দৃশ্যমান ইঙ্গিত।



