আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তিতে কাজির বদলে সরকারি রেজিস্ট্রার
- মুসলিম দম্পতিদের জন্য বিয়ে নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক
- ১৮ বছরের আগে কনের ও ২১ বছরের আগে বরের বিয়ে নথিভুক্ত হবে না

সংগৃহীত ছবি
আসামে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনল আসাম রাজ্য সরকার। মুসলিম দম্পতিদের বিয়ে এখন সরকারি রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানান, মন্ত্রিসভা ‘আসাম মুসলিম ম্যারেজ রেজিস্ট্রেশন (কমপালসরি) রুলস, ২০২৬’ অনুমোদন করেছে। নতুন বিধির মাধ্যমে রাজ্যজুড়ে মুসলিম বিয়ে নথিভুক্তির জন্য অভিন্ন সরকারি প্রক্রিয়া চালু হচ্ছে।
অর্থাৎ, মুসলিম পরিবারগুলির জন্য বিয়ে নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজির পুরনো ব্যবস্থার পরিবর্তে সরকারি রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাই হবে মূল মাধ্যম। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জানিয়েছেন, বর্তমানে সরকারি রেজিস্ট্রারদের মাধ্যমেই এই নথিভুক্তি হবে। আবেদনকারীর সংখ্যা বাড়লে পঞ্চায়েত স্তরের আধিকারিকদেরও রেজিস্ট্রারের ক্ষমতা দেওয়া হতে পারে, যাতে দূরের এলাকার মানুষকে নথিভুক্তির জন্য অতিরিক্ত সমস্যায় পড়তে না হয়।
নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল বিয়ে নথিভুক্তি আর ঐচ্ছিক বিষয় নয়। ২০২৪ সালে আসাম বিধানসভায় পাশ হওয়া ‘আসাম কমপালসরি রেজিস্ট্রেশন অব মুসলিম ম্যারেজেস অ্যান্ড ডিভোর্সেস অ্যাক্ট’-এর অধীনেই নতুন বিধি তৈরি হয়েছে। ওই আইনের লক্ষ্য ছিল মুসলিম বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদকে সরকারি নথিভুক্তির আওতায় আনা।
নতুন ব্যবস্থায় বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের শর্তও স্পষ্ট। কনের বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বরের বয়স কমপক্ষে ২১ বছর হতে হবে। আইনে আইনসিদ্ধ বয়সের নিচে বিয়ের নথিভুক্তির সুযোগ রাখা হয়নি।
বিয়েতে উভয় পক্ষের সম্মতির বিষয়টিও আইনি কাঠামোর অংশ। একই সঙ্গে আইনটি মুসলিম বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের সরকারি নথি তৈরির মাধ্যমে বিবাহিত মহিলাদের বিভিন্ন আইনি অধিকার সুরক্ষার উদ্দেশ্যও সামনে রেখেছে।
এটাই নতুন ব্যবস্থার অন্যতম বড় পরিবর্তন। ১৯৩৫ সালের পুরনো আইনে মুসলিম বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্তির ক্ষেত্রে কাজিদের ভূমিকা ছিল। ২০২৪ সালের আইন সেই পুরনো কাঠামোকে সরিয়ে দেয়। নতুন ব্যবস্থায় নথিভুক্তির দায়িত্ব থাকবে সরকারি রেজিস্ট্রারদের হাতে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, কাজিদের মাধ্যমে নথিভুক্তি বন্ধ করার সিদ্ধান্ত আগে নেওয়া হলেও তার পরিবর্তে সাধারণ মানুষ কোথায় এবং কীভাবে বিয়ে নথিভুক্ত করবেন, তা নিয়ে স্পষ্ট প্রক্রিয়া ছিল না। নতুন বিধি সেই প্রক্রিয়াকে নির্দিষ্ট করছে।
বিয়ের সরকারি নথি ভবিষ্যতে একাধিক আইনি ও প্রশাসনিক কাজে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বিবাহিত সম্পর্কের প্রমাণ, স্ত্রী বা স্বামীর অধিকার, ভরণপোষণ, উত্তরাধিকার সংক্রান্ত দাবি কিংবা অন্য কোনও আইনি বিষয়ে বিয়ের সরকারি নথি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ২০২৪ সালের আইনের উদ্দেশ্যপত্রেও বিবাহিত মুসলিম নারী-পুরুষের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন আইনে ভুয়ো বা জাল নথি ব্যবহার করে বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও শাস্তির বিধান রয়েছে। একইভাবে আইনের শর্ত ভেঙে বিয়ে নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রেও শাস্তির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নতুন বিধির মাধ্যমে কার্যকর হচ্ছে ২০২৪ সালের আইন। এর আগে মুসলিম বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদ নথিভুক্তির জন্য ১৯৩৫ সালের আইন কার্যকর ছিল। ২০২৪ সালের নতুন আইন সেই পুরনো কাঠামোকে প্রতিস্থাপন করে বিয়ে ও বিবাহবিচ্ছেদের নথিভুক্তিকে সরকারি ব্যবস্থার অধীনে নিয়ে আসে।
রাজ্য সরকারের বক্তব্য, নতুন বিধির মাধ্যমে এখন সেই আইনের বাস্তব প্রয়োগের জন্য একটি নির্দিষ্ট ও অভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা তৈরি হল।



